সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লার বাসিন্দা ঝুমন দাসকে এক বছরের জন্য জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

জামিনের শর্ত অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার বাইরে যেতে বিচারিক আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালত আদেশে বলে, ‘আমাদের সবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক এবং বাক্‌স্বাধীনতা দিয়েছে। চিন্তা, বিবেক এবং বাক্‌স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও এসব ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাকে এক বছরের জামিন দেয়া হলো। তবে শর্ত হলো আদালতের অনুমতি ছাড়া (ঝুমন) সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে পারবে না।’

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শানে রিসালাত নামে সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। সেখানে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমন দাস নামে এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তা হেফাজতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর মনে হয়। তারা পরদিন এর প্রতিবাদে সমাবেশও করে।

ওই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

গত ১৬ মার্চ রাতে ঝুমন দাসকে আটক করা হয়। পরে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার বাদী হন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম।

এ মামলায় ৩ আগস্ট বিচারিক আদালতে জামিন খারিজ হয় ঝুমনের। পরে ২২ আগস্ট হাইকোর্টে তার জামিনের আবেদন করা হয়।

Loading...