কমলগঞ্জে ২০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি জুয়েল হত্যার আসামিরা

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জুয়েল হত্যার ২০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি হত্যাকারী। দিন কাঠাচ্ছে আহাজারী করে স্ত্রী সন্তান। ২০দিন পূর্বে সিএনজি চালকের ঘুষির আঘাতে নিহত শমশেরনগর বাজারের দোকান মালিক জুয়েল আহমেদ।

হত্যা মামলার আসামীদের রক্ষা করতে প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী বুশরা বেগম। তবে পুলিশ বলছে আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

জানা যায়, শমশেরনগর বাজারে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২১ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় শিংরাউলী গ্রামের সিএনজি চালক আহাদ মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া ও তার আত্মীয় আফিল মিয়ার ছেলে তুরন মিয়া অতর্কিতভাবে এসে মুকুল মিয়ার ছেলে বাপ্পা মিয়াকে বেদড়ক মারপিট করে। এ ঘটনায় মুকুল মিয়ার বন্ধু দোকান মালিক জুয়েল আহমেদ প্রতিবাদ করেছিলেন।

পরে হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে এসে সিএনজি চালক শারফিন মিয়ার নেতৃত্বে একদল সিএনজি চালক অতর্কিতে এসে জুয়েলকে কিলঘুষি মারলে ঘটনাস্থলে সে গুরুরতভাবে আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত জুয়েলের স্ত্রী বুশরা বেগম ৩ জনের নাম উল্লেখসহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ২০ দিন গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী বুশরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারিনি।

শমশেরনগরবাসী জানেন একটি প্রভাবশালী চক্র হত্যাকারীদের রক্ষার চেষ্টা করছে। ঘটনার পর একটি প্রভাবশালী চক্র হত্যাকারীদের সার্বিকভাবে সাহায্য করছে। পুলিশ মরিয়া হয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলেও তা পারছে না।

এদিকে হত্যাকারীর পক্ষ নিয়ে কয়েকজন সিএনজি চালক হত্যাকারীর পরিবারে আর্থিক সহায়তা করতে চাঁদা তোলা শুরু করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪ জন চালককে ফাঁড়িতে নিয়ে শাসিয়েছেন বলেও নিহতের স্ত্রী জানান।

তিনি আরো বলেন, আসামী সিএনজি চালক সমিতির নেতা শারফিন মিয়া খুবই সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। এর আগেও একবার সে তার স্বামীকে হামলার চেষ্টা করচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তক্রমে ও দ্রুত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপাররের সাথে কথা বলেছিলেন বলে সে জানায়।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেন  বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে জোর অভিযান চলছে। আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। এছাড়াও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) ও অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে জোর পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Loading...