কুলাউড়ায় দফায় দফায় ভেঙে পড়ছে বেইলি সেতু, পাঁকা করনের জোর দাবি

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া রাউৎগাঁও ইউপি এর কুলাউড়া টু রবিবাজার সড়কের ফানাই নদীর ওপর থাকা বেইলি সেতু ভেঙে গতকাল (২জুলাই) শুক্রবার দুপুর থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে সাধারণ মানুষ।

৩ জুলাই শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন সংস্কার করে সেতুটি সচলের কাজ করেন। এ নিয়ে বেইলি ব্রিজে গত দুই বছরে ৫/৬ বার ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রবিরবাজারগামী সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুর দুটি স্থানে ট্র্যানজাম ভেঙে যায়। এতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেতুর দুই প্রবেশমুখে বাঁশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে সড়ক ও জনপথের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় দুই যুগ আগে নির্মাণ করা হয় ব্রিজটি। দীর্ঘদিন ধরে বেইলি ব্রিজটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাঁচ টনের অধিক ভারী যানবাহন সেতুতে না ওঠার জন্য সেতুর দুই পাশে সাইনবোর্ড লাগানো হলেও তা উপেক্ষা করে প্রতিদিন ১০-১৫ টনের বেশি ভারী মালামাল নিয়ে সেতু পার হচ্ছে। সেতুটি অনেক পুরাতন হওয়া বার বার ট্র্যানজাম ও পাটাতন ভেঙে যায়।

স্থানীয় রাউৎগাঁও ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল বলেন, সেতুটি অনেক পুরাতন ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বার বার ভারী যানবাহন চলার কারণে এটির ট্র্যানজামসহ বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে যায়। চলতি বছরের ১৮ মার্চ সেতুটির ট্র্যানজাম ভেঙে দুদিন চলাচল বন্ধ ছিল। এর আগেও গত কয়েক বছরে ৫-৬ বার ট্র্যানজাম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (মৌলভীবাজার) কুলাউড়া কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সুভাষ পুরকায়স্থ বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে লোক পাঠাই। লকডাউনের জন্য শ্রমিক না পাওয়া শুক্রবার কাজ শুরু করতে পারিনি। সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

তিনি আরো বলেন, শনিবার সকাল থেকে ট্র্যানজামগুলো সংস্কারের কাজ চলছে। আশা করছি সন্ধ্যার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এছাড়া ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছরে সেতুটি নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আশা রয়েছে বলে। উল্লেখ এই ব্রীজ দিয়ে প্রায় ৪ টি ইউপি এর মানুষ যাতায়াত করেন। বার বার ব্রীজ ভেঙে যাওয়ার ফলে ভোগান্তির মাঝে পরতে হয়। স্থানীয়রা ব্রীজটি পাকা করনের জন্য জোর দাবি জানান।

Loading...