জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত, মহামান্য হাইকোর্টের রায় নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বেগ

যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন যে , আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী গণ,  প্রবাসীদের  পক্ষ থেকে একটি জন গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং শংকার কথা বিবেচনায় এনে আপনার সদয় দৃষ্টি এবং আমাদের জায়গা থেকে অবগত করার প্রচেষ্টা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রি সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

 

পৃথিবীর ১৬৮ দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। তারা প্রতিবছর রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  করোনা মহামারী সময়ে, গত বছর প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন রেকর্ড সৃষ্টিকারী ২২ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধনে। কিন্তু বিভিন্ন সময়  প্রবাসীরা নানা জটিলতার শিকার হন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা, আবার কখনো প্রতারিত হন নিজের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে। শেষ ভরসা হিসেবে প্রবাসীরা কখনো কখনো আদালতের দ্বারস্থ হন। আমরা নানা ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি নতুন প্রজন্মকে দেশের সাথে সংযুক্ত রাখতে। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে আমরা দেখেছি,  বাংলাদেশের মহামান্য হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছেন, এখন থেকে মামলা করতে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে।

 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধরণের একটি উদ্যেগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সময়ের প্রয়োজনে এবং মিথ্যা মামলার হয়রানী ভুয়া প্রতারণা মুলক, হয়রানী প্রতিরোধে এই রায় যুগান্তকারী হিসাবেই বিবেচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য এটি কষ্টসাধ্য নয় এবং প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকই দেশের ভোটার হিসাবে সবার কাছেই জাতীয় পরিচয়পত্র আছে।

 

কিন্তু, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে আদালতের এই আদেশ সমানভাবে প্রযোজ্য হলে প্রবাসীরা হয়রানী ও প্রতারণার শিকার হবেন বলে মনে করছেন। সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই সামাজাইক যোগাযোগ মাধ্যম সহ নানাভাবেই নানা শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের উদ্বেগ  জানিয়েছেন।  কারণ প্রবাসীর বেশির ভাগের কাছে নেই এনআইডি।

 

প্রবাসীরা যদি এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারে তাহলে তাদের সহায় সম্পত্তি রক্ষার শেষ আশ্রয়স্থলটিতে পৌঁছাতে সৃষ্টি হবে জটিলতা। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা প্রবাসীদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় আরও বেশি সফল হবে। সামগ্রিক বিবেচনায় প্রবাসীদের আপাতত এই আদেশটি থেকে বাইরে রাখা যায় কিনা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

 

 

আমরা আস্থা এবং ভরসার জায়গা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তায় এ ধরনের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করি। তবে আমরা সরকারের সকল উন্নয়ন অগ্রগতির সহযাত্রী হিসেবে থাকতে চাই। এবং তারি সাথে আমাদের স্বার্থের বিষয়টি আমলে নেওয়ার যৌক্তিক উত্থাপন করছি।

 

 

এন আর বি পক্ষে ::—

 

আনসার আহমেদ উল্লাহ, লন্ডন 

আহাদ চৌধুরী বাবু, লন্ডন 

জামাল খান, লন্ডন

আসম মাসুম, লন্ডন 

জুয়েল রাজ, লন্ডন 

শাহ বেলাল, লন্ডন

কমরেড মসুদ, বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য 

শামীম আহমদ, লুটন, যুক্তরাজ্য

তরুণ কান্তি চৌধুরী, সুইডেন

খোরশেদ আহমেদ, ওসলো, নরওয়ে

বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, হল্যান্ড

ড. মজিবুর দফতরি, ফিনল্যান্ড

বি এম জামান, আমস্টারডাম, হল্যান্ড

রহমান খলিলুর, জেনেভা, সুইজারল্যান্ড

রিনা মোশারফ, লন্ডন

নূরুদ্দিন আহমেদ, লন্ডন

 

 

 

 

প্রেস স্টেটমেন্ট ।।

 

 

 

 

Loading...