প্রভাবশালী চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন::

সিলেটে একটি প্রভাবশালী চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। চক্রটি প্রভাব খাটিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্দেশ বলে অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধার বাসার দেওয়াল ভেঙে ফেলেছে। পরে সিসিকের উন্নয়নমূলক কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে মানবন্ধন করেছে। এ ঘটনায় সিসিক মেয়রের নির্দেশের পরও ভাঙা দেয়াল পুননির্মাণ করে দিচ্ছে না চক্রটি। বরং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সিলেট নগরের শিবগঞ্জ লাকড়িপাড়া এলাকার রংধনু ৮ নং বাসার স্থায়ী বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন বলেন, গত ১২ জুন সকালে হঠাৎ দেয়াল ভাঙার শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। বাইরে গিয়ে দেখি স্থানীয় বাসিন্দা দুদু মিয়া ও তাঁর ১০/১৫ জন সহযোগী আমার বাসার দেয়াল ভাঙচুর করছে।

এসময় আমি বাঁধা দিলে তাঁরা জানায় সিলেট সিটি করপোরেশনের(সিসিক) নির্দেশে দেয়াল ভাঙা হচ্ছে। আমি সিসিকের নির্দেশনা দেখতে চাইলে তারা আমার উপর হামলার চেষ্টা করে। দেয়াল ভাঙার ঘটনার পর গত ১৮ জুন ওই চক্রটি সিসিকের উন্নয়নের কাজে আমি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছি এমন অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে।

মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন বলেন, আমার বাসার দেয়াল ভাঙার ঘটনায় আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাহপরাণ থানার ওসি, সিসিকের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু তারা বিষয়টির সুরাহা করতে পারেননি।

এরপর আমরা ঘটনাটি সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে অবগত করলে তিনি ১৯ জুন ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় যারা দেয়াল ভেঙেছেন তাদেরকে পুনরায় দ্রুত স্বস্থানে দেয়াল নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশন দেন। মেয়রের সাথে কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদও উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় প্রতিপক্ষও মেয়রের নির্দেশনা মেনে নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার দেয়াল পুননির্মাণ করে দেওয়া হয়নি।

বরং আমাকে হুমকি-ধমকি প্রদান করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহাব উদ্দিন বলেন, আমি সিসিকের উন্নয়ন কাজে প্রতিবন্ধকতা করছি না বরং সহযোগিতা করছি।

চক্রটি আমার বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজে প্রতিবন্ধকতার ভূয়া তথ্য দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। তাঁরা আমাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অপপ্রচার করছে। অথচ আমি সরকারি গ্যাজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও নিয়মিত সরকারি ভাতা পেয়ে আসছি।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার ভারতীয় তালিকা নং ১৫৬১, চুড়ান্ত লাল মুক্তিবার্তা নং ০১০৬০৩০২৮৬, গ্যাজেট নং ২০৫০ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাময়িক সনদ নং ম-৫৫১৪৫।
তিনি বলেন, আমরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালে লাল-সবুজের পতাকা দেশবাসীকে উপহার দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও যদি একজন মুক্তিযোদ্ধা জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন তবে সেটি সত্যিই দু:খজনক।

জাতির সকল সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের যারা অপমান করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শাহাব উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে সাকলাইন দেওয়ান রুজেদ, মেয়ে রুনা লায়লা, রুজিনা আক্তার শিপা ও সেলিনা আক্তার লুনা।

 

 

 

 

— বিজ্ঞপ্তি ।।

Loading...