পালিয়ে বিয়ে, ১১ মাস পর লাশ হয়ে ফিরলো রোকসানা

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রোকসানা বেগম (১৮) বিয়ের ১১ মাসের মধ্যেই লাশ হলেন শ্বশুরবাড়িতে। গত বৃহস্পতিবার (১০ই জুন) সিলেটের বিমানবন্দর থানার মুড়ারগাঁও ( ধুপাগুল) গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে রোকসানার লাশ উদ্ধার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আদালতে মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্মীয়তার সূত্রে রাজন মিয়া ও রোকসানা বেগম এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক রোকসানার পরিবার থেকে মেনে না নেওয়ায় গত বছরের ২৬শে জুন দু’জনে পালিয়ে বিয়ে করেন।

এক পর্যায়ে দুই পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী রাজন বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার কথা বলে রোকসানাকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে।

২ লক্ষ টাকার জন্য রোকসানাকে খুব বেশি চাপ দেয় ঘটনার পূর্বে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে প্রায় সময় রাজন সহ তার পরিবারের লোকজন রোকসানাকে নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১০ইজুন) দুপুরে রোকসানা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দেওয়া হয় তার পরিবারকে।

রোকসানা বেগমের মা দাবি করেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুকের জন্য প্রায় দিন আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অসহ্য নির্যাতন করত। অবশেষে যৌতুকের টাকা চেয়ে না পেয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার মেয়ে রোকসানা বেগম কে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। এই হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার দিন তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে প্রচন্ড মারধর করে। মেয়েকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী রাজন মিয়া ফোন করে আমাদেরকে বলে রোকসানা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ।

ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ের লাশ দাফনের জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব তাড়াহুড়ো করছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে আমি সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটে আদালতে মামলা দায়ের করি।

সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার (১৮জুন) নিহত রোকসানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম। সংবাদকর্মীদের দেখে রোকসানা বেগম এর মা ন্যায় বিচারের দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন,কান্নার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে পরে।

ইতিমধ্যে রোকসানার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বোন রিনা বেগমের একটি ভিডিও পোস্ট ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে নিহত রোকসানার মুখ ও কপালে কালো আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।

হত্যার অভিযোগের বিষয়ে রোকসানার বেগমের স্বামী রাজন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে কথা বললে তিনি জানান, ঘটনার দিন ১ টার পর বাড়িতে এসে খোঁজাখুঁজি করে আমার স্ত্রীকে পাচ্ছিলাম না। কিছু সময় পর হঠাৎ আমাদের পুরনো একটি গোয়াল ঘরে গিয়ে আমার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। যৌতুকের দাবিতে আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করার বিষয়টি মিথ্যা।

এব্যপারে সিলেটের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির রোকসানা বেগমের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এটা হত্যা না আত্মহত্যা বলা যাবে।

বর্তমানে এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। প্রমান পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Loading...