কমলগঞ্জ চা বাগানে শ্রমিদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,আহত-৩

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনধিঃ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বলয়ের চা শ্রমিকরা চা বাগান কারখানার সামনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করেন।

এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হামলায় ফ্যাক্টরী চৌকিদার লক্ষিন্দর ভৌমিক, বাগানের গেইম্যান নয়ন কুর্মি সহ তিন জন আহত হয়েছেন। এতে চা বাগানে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এক প্লাটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোজ সোমবার (১৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে এ ঘটনা ঘটে।

সরজমিনে পাত্রখোলা চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, উত্তেজিত চা শ্রমিকরা বাগানের কোন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা। পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বলয়ের চা শ্রমিকরা বাগানের কারখানার সামনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সহকারি পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) শফিকুল ইসলাম ভূইয়া এর নেতৃত্বে চা বাগানের প্রধান ফটকে পুলিশ অবস্থান করছে। আলাপকালে বিক্ষোভদ্ধ মহিলা চা শ্রমিক ফুলকুমারী চাষা, অলকা গঞ্জু, পহেলা গীতা, গোলশান বিবি, পুরুষ শ্রমিক নাগিনা নুনিয়া, শংকর কৈরী, রাধেশ্যাম গড়, জীবন তেলী, শ্রী পুজন দাস বলেন, চা সেকশনে বজ্রপাতের সময় আমাদের নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই। ম্যানেজমেন্টের অনুগত লোকজন সকল সুযোগ সুবিদা ভোগ করলেও আমরা সাধারণ শ্রমিকরা তা থেকে বঞ্চিত। চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিন থেকে বসত ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকলেও ম্যানেজমেন্ট মেরামত করে দিচ্ছেনা।

তারা বলেন, আমাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই আজকে দাবীদাওয়া নিয়ে এই বিক্ষোভে নেমেছি। পাত্রখোলা চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তী বলেন, গত ২০১৯ সাল থেকে এ চা বাগানের বেশ কিছু শ্রমিকের বসত ঘর ঝরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রমিকদের ঘরের ভেতর বৃষ্টির পানি পড়ে।

চা বাগান কর্তৃপক্ষকে ঘর মেরামতের দাবি জানিয়ে আসলেও দেখা গেছে একটি পক্ষের চা শ্রমিকদের ঘর মেরামত করা হলেও প্রকৃত ঝরাজীর্ণ ঘর মেরামত ও সু- চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। এ দাবীতে সোমবার সকালে পাত্রখোলা চা বাগানের নারী ও পুরুষ চা শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে চা বাগান কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে দাবী আদায়ে বিক্ষোভ করছে।

এ দিকে ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকাল ৯টায় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ- শ্রীমঙ্গল সার্কেল) শহিদুল ইসলাম মুন্সী, কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি)-র এজিএম কাম পাত্রখোলা চা বাগান ব্যবস্থাপক শামছুল ইসলাম সেলিম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আসলে বাগান ব্যবস্থাপনার কোন সমস্যা নয়। চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটি গ্রুপের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধেই আজ পাত্রখোলা চা বাগানে এ অবস্থার সৃষ্টি।

Loading...