বিশ্বনাথে কলেজ ছাত্রী উত্যক্তকারীরা বেপরোয়া

পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ::

বিশ্বনাথের পল্লীতে কলেজ ছাত্রী (১৭) উত্যক্তকারীরা বেপরোয়া। এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের লোক হওয়ায় ছাত্রী উত্যক্তকারীদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এলাকার ৪/৫ জন তরুণ যুবক সংঘটিত হয়ে ছাত্রীর প্রতিনিয়ত পিছু নিয়ে তাঁকে উত্যক্ত করছে। শুধু উত্যক্ত নয়, অশ্লীল ভাষায় মেয়ের সাথে আচরণ করছে বখাটে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বনাথ থানার দক্ষিণ মীরের চক গ্রামে। গত বছরের ১৫ই আগস্ট থেকে এলাকার অপরাধিরা কলেজ ছাত্রীর পিছু নিয়েছে। কলেজ ছাত্রী (১৭) বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছাত্রীর পিতা এলাকার কৃষক গৌছ আলীর বড় মেয়ে। গত বছর একই তারিখে রাত ৮টায় মেয়েটি ঘর থেকে কলসি নিয়ে পানি আনতে বাড়ির উঠানে টিউব কলে যায়। সেখানে ওৎ পেতে থাকা অপরাধিরা মেয়েটিকে ঝাপটে ধরে টানা হেঁচড়া শুরু করে। মেয়েটি তখন চিৎকার শুরু করলে পিতা-মাতা ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে রাসেল (২৮), লাল মিয়া (২৫), আহাদ আলীর ছেলে রাব্বি আহমদ (২৫), রহমত আলীর ছেলে ইকরাম (২৬) সংঘটিত হয়ে এই ধরণের অপরাধ করছে দেখতে পেয়ে মেয়ের পিতা-মাতা চিৎকার শুরু করেন।

পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে এই বখাটে ছেলেদের অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারেন। ঘটনাকালে মেয়ের মা স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ছেলেদের প্রতিবাদ করে বিচার চান। তখন ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের শরীরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাতে মেয়ের শরীরে আঘাত লেগে জখম হয়। প্রতিরাতেই মেয়েকে উত্যক্ত করতে এই ছেলেরা মেয়ের ঘরের চালে ইট পাথর দিয়ে ঢিল ছুড়ে মারে। ঢিলের আঘাতে মেয়ের ঘরের চালে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব সন্ত্রাসীদের কারণে মেয়েটি এখন আর ঘরতে ঠিকমতো বের হতে পারে না। বখাটে যুবকদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি হুমকিতে তটস্থ গোঠা পরিবার। স্থানীয় মুরব্বীদের কাছে গিয়ে বিচার চেয়ে ছিলেন মেয়ের মা। কিন্তু বখাটে যুবকদের অত্যাচারের কারণে বিচার শালিস আর হয় নাই। বিচার চাওয়ার কারণে বখাটে যুবকরা মেয়ের মায়ের পালিত চারটি হাঁস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। মেয়েকে উত্যক্ত হওয়ার ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ায় মেয়ের আত্নসম্মান নিয়ে চিন্তিত পরিবারটি। রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেছেন, স্থানীয় ইউপির ১নং ওয়ার্ড মেম্বার রফিকের আপন স্বজন হয় অপরাধিরা। রফিক মেম্বারের প্রভাবের কারণে অপরাধিরা এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। রফিক মেম্বারের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি বিচার না করে পাল্টা হুমকি-দমকী দেন।

গত ১০ই মার্চ মেয়ের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে এসব বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অভিযোগে রোকেয়া বেগম বলেন, বখাটে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে তিনি তার মেয়েকে রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন। বলেছেন তিনির অবুঝ নাতি সোহাগ বয়স (৭) অপরাধিরা যখন হাঁস ধরে নেয় ছেলেটি ঘরে গিয়ে খবরটি বলার কারণে তাকেও বখাটে সন্ত্রাসীরা মারপিঠে নির্যাতন করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষকে একটি সালিশে বসান এলাকার মুরব্বীরা। সালিশে বসে ন্যায় বিচার করতে চাইলে অভিযুক্ত অপরাধিরা তা বানচাল করে দেয়। এখন রোকেয়া বেগম তাঁর পরিবারের সদস্যদের এবং মেয়ের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি প্রথমে হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ সিলেট বিভাগীয় কমিটির অফিসের দারস্ত হন। এ সংস্থার সহযোগিতায় রোকেয়া বেগম সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগটি পেশ করেন। একই অভিযোগটি সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।

— বিজ্ঞপ্তি ।।

Loading...