ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে

ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করার অভিযোগ করেছেন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ সরকার থেকে জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা পেয়েছে। অথচ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ এস.আই আজাদ আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সানাওয়ার চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টকে নিয়ে হিংসাত্বকভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন প্রবাসী নুরুল করিম।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, শিকড়ের টানে গঠিত এই ট্রাস্ট বিগত ২০ বছর ধরে জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষার্থীদের উৎসাহ-শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ শিক্ষার প্রসারে বৃত্তি প্রদান করে আসছে। গত কয়েক দিন ধরে ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট এর বিরুদ্ধে হিংসা ও মিথ্যা অপপ্রচার চলছে। যা অত্যন্ত দুঃখের।

সকল মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ মান্নানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার থেকে জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকা পেয়েছে। সমোদয় টাকা এক্সিম ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখায় ট্রাস্টের একাউন্টে জমা হয়েছে। কিন্তু কিছু মহল থেকে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ করেছেন নুরুল করিম নামে এক প্রবাসী। এটা আদৌ এটা সত্য নয়। এতে ট্রাস্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে রিসোর্স সেন্টার নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে। রিসোর্স সেন্টারের নির্মাণ কাজও শেষের দিকে। এই কাজ স্থানীয় নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তদারকি করা হয়।

তারা জানান, নুরুল করিম নামের ওই প্রবাসী ২০১৫ সালে ট্রাস্টের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। তারই ফলস্বরূপ মিথ্যা মামলার জন্য তাকে সর্বসম্মতিক্রমে ট্রাস্ট বহিষ্কার করে। যা কার্যনীতিতে রয়েছে এবং প্রমাণও রয়েছে।

ট্রাস্টের ভূমি প্রসঙ্গে তারা বলেন, হাসনাত আহমদ চুনু ৪ শতাংশ ভূমি ট্রাস্টে দান করেছেন এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ ভূমি ট্রাস্ট এবং ট্রাস্টি আনোয়ার আলী, মুজিবুর রহমান মুজিব এবং এম হোসেনের মাধ্যমে যৌথভাবে ক্রয় করা হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে নুরুল করিমের বক্তব্যও সম্পূর্ণ মিথ্যা।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের ২৫ লক্ষ টাকা বৃত্তি বিতরণ বানচালের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। এই সময় দেশে সৌভাগ্যবশত ১০ থেকে ১৫ জন ট্রাস্টি থাকায় এবং সবার প্রচেষ্টায় জরুরি সভা করে রেজুলেশন নিয়ে নুরুল করিমের হীন চেষ্টাকে ব্যর্থ করে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সফলভাবে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এর ফলস্বরূপ ট্রাস্ট এর ইসি কমিটি তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, তার দুষ্কর্মের বিবরণ শুনে অধিকাংশ ট্রাস্টিরা তার সাময়িক বহিষ্কারের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। তাই ট্রাষ্টের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাছাড়া মানি লন্ডারিং করে টাকা পাঠানোর মিথ্যা অভিযোগ তুলা হয়েছে। অথচ ফি ছাড়া বাহির থেকে কোন টাকা আসে নাই আবার যায়ও নাই। সুতরাং মানি লন্ডারিং এর প্রশ্নই উঠে না। এছাড়া প্রবাসে তৃতীয় প্রজন্মকে দেশের সঙ্গে সেতুবন্ধন করতে ট্রাস্ট অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান নেতৃবৃন্দ।

— প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close