করোনা: চিকিৎসায় রেমডেসিভির নয় : ডাব্লিউএইচও

টিকা অনুমোদনের আবেদন ফাইজারের::

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

করোনার টিকা অনুমোদনের অপেক্ষার প্রহর যখন গুনছে ফাইজার, মডার্নার মতো ওষুধ কম্পানি; তখন বড় ধরনের ধাক্কা খেল আরেক মার্কিন ওষুধ সংস্থা গিলেড সায়েন্সেস। গতকাল শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) একটি প্যানেল জানিয়েছে, করোনার চিকিৎসার জন্য রোগীদের ‘রেমডেসিভির’ দেওয়া যাবে না। কারণ এই ওষুধ ব্যবহারে করোনায় মৃত্যুর হার কমেছে বা রোগীদের ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন কমেছে—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।

ওষুধটির উৎপাদক প্রতিষ্ঠান গিলেড সায়েন্সেস শুরুতে জানিয়েছিল, ইবোলা ঠেকাতে তৈরি হওয়া এই ওষুধ করোনার চিকিৎসায় রেমডেসিভির বেশ কার্যকর। প্রাথমিক ট্রায়ালের পর সংস্থাটির এমন দাবি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে। তবে এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। গত এপ্রিলে রেমডেসিভিরের সহায়ক ভূমিকার ‘সুস্পষ্ট’ প্রমাণ মেলার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) থেকে জরুরি অনুমোদন পায় রেমডেসিভির। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশও এই ওষুধ কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা আক্রান্ত হলে তাঁর চিকিৎসাও রেমডেসিভির ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন দেশে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাত সহস্রাধিক রোগীর ওপর ট্রায়াল চালিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল ওষুধটি ব্যবহার না করতে পরামর্শ দিয়েছে। এসংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ চিকিৎসা সাময়িকী ‘বিএমজে’তে প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্য ডাব্লিউএইচও এও বলেছে, রেমডেসিভির যে একেবারেই অকার্যকর, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ট্রায়াল চলমান আছে। ওষুধটির খুব সামান্য উপকারিতা থাকতে পারে কিংবা বিশেষ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। কিন্তু সার্বিকভাবে এখনো তেমন কার্যকারিতার প্রমাণ মেলেনি।

তবে গিলিয়াড কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘আমরা ডাব্লিউএইচও’র সিদ্ধান্তে হতাশ। কারণ বিশ্বে করোনার সংখ্যা যখন দ্রুত হারে বাড়ছিল, যখন চিকিৎসকরা এই ওষুধের ওপর ভরসা করছিলেন, তখন ডাব্লিউএইচও তাদের গাইডলাইনে এই প্রামাণ্য তথ্যকে নজরে আনেনি। এখন এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা। সংস্থাটি অন্যান্য ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সব প্রমাণ অগ্রাহ্য করছে।

করোনা চিকিৎসায় সম্প্রতি যে দুটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, রেমডেসিভির তার একটি। গত মাসে ডাব্লিউএইচও রেমডেসিভিরের প্রভাব নিয়ে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিষয়ে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করে। সেখানে সংস্থাটির গবেষকরা জানান, তাদের গবেষণায় রেমডেসিভির করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতালে অবস্থানের সময় কমানো বা মৃত্যু ঠেকাতে ওষুধগুলো সামান্যই প্রভাব রেখেছে বা কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশের ১১ হাজার ২৬৬ জন রোগীর ওপর ওই ট্রায়াল চালানো হয়। ওই ট্রায়ালে রেমডেসিভির ছাড়াও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, এইডস নিরোধী লোপিনাভির/রিটোনাভির এবং ইন্টারফেরনের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়।

টিকা অনুমোদনের আবেদন ফাইজারের : নিজেদের উদ্ভাবিত করোনার টিকার জরুরি অনুমোদনের জন্য গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে আবেদন করেছে ফাইজার। এই মার্কিন ওষুধ কম্পানিটি জার্মান জৈব-প্রযুক্তি কম্পানি বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথভাবে টিকাটি উদ্ভাবন করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ফাইজার জানায়, তাদের টিকা করোনা মোকাবেলায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফলে উঠে এসেছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা মানদণ্ডও পূরণ করেছে টিকাটি।

টিকাটির কার্যকারিতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম ডোজ নেওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে ৯৫ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবী ভাইরাস থেকে রক্ষা পেয়েছে। এটি ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৯৪ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। টিকাটি গ্রহণের পর গুরুতর কোনো দুঃসংবাদ পাওয়া যায়নি। এটির সুরক্ষা নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ নেই। ৪৩ হাজার টিকা গ্রহীতার মধ্যে মাত্র ২ শতাংশের মাথাব্যথা এবং ৩.৭ শতাংশ মানুষের ক্লান্তি বোধ দেখা দেয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইল্যান্ড, টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো ও টিনেসি অঙ্গরাজ্যে ফাইজারের টিকার পরীক্ষামূলক সরবরাহের পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তবে এই সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সমস্যা হচ্ছে তাপমাত্রা। ফাইজার উদ্ভাবিত টিকা সংরক্ষণ করতে হয় মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্য সাধারণ টিকা রাখা হয় দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ ক্ষেত্রে ফাইজারের এই টিকা সাধারণ ওষুধ বিতরণকারীদের কাছে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র :— এএফপি, রয়টার্স।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close