গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কর্মহীন হয়ে পড়া পাথর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের বাঁচার আকুতি!

দূর্গেশ সরকার (বাপ্পী) :

সিলেটের প্রান্তিক জনপদ গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খনিজ সম্পদে অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পাথর রয়েছে ভরপুর। যা থেকে সরকার বাহাদুর রাজস্ব পেয়ে থাকেন। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিছনাকান্দি, জাফলং, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় পাথর সংশ্লিষ্ট সকল শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা নির্বাহকারী ও শ্রমিক ব্যবসায়ী রোজগার থেকে বঞ্চিত হয়ে পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ কোন শিল্প কার খানা না থাকায় বেশি ভাগ মানুষের বিকল্প রোজি- রোজগার নেই কোন বিকল্প কর্ম ক্ষেত্র। অত্র এলাকার বেশির ভাগ জনাসাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ, শতকার বেশি ভাগ মানুষের তাদের একমাত্র রোজি রোজিগা করে থাকেন পাথরের রাজ্য থেকে । বর্তমানে এ পরিচয়টুকু এখন হারিয়ে যাচ্ছে বিছনাকান্দি ,জাফলং,ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী পাথরের ভান্ডার থেকে পাথর আহরন করে নৌকা এবং ট্রলি দিয়ে তা পরিবহন করে যে মানুষগুলো যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল, আজ তারা কর্ম ক্ষেত্র হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা । স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের আবকাটামোগত উন্নয়নের নিমার্ন কাজে সিলেটের পাথর ব্যাবহার হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন যাবত , সিলেটের জাফলং,বিছনাকান্দি,ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীগুলোই যোগান দিয়ে আসছিলো । গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারীতে পাথর আহরন করে এ অঞ্চলের মানুষগুলো পরিজন নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দেই জীবিকা নির্বাহ করতো। শ্রমিক কর্তৃক আহরিত এ পাথর বিপনন এবং প্রক্রিয়া করণে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজারো স্টোন ক্রাশার। এসব স্টোন ক্রাশারে আরও লক্ষাধিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে থাকে। পাথর পরিবহনের জন্য আত্র এলাকার ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরাও পরেছেন বিপাকে । পাথর পরিবহনের সাথে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে অত্র এলাকায় তারও আজ বেকার। এক সময়ের অবহেলিত অঞ্চল ক্রমশঃ সমৃদ্ধ জনপদে রুপান্তরিত হয়। স্থানীয়ভাবে পাহরিত পাথরের গুনগত মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। পাথরের আর্শীবাদে সিলেটের এ প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিপুলাংশে বৃদ্ধি পায়। বৃহৎ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় একমাত্র পাথরকে কেন্দ্র করেই সৃষ্ট জীবিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্র সিলেটের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। কাজ নেই, রোজগার নেই এ অবস্থায় বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত গোয়াইঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীক লাখো সহস্রাধিক মানুষের জীবন আজ চরম দুর্বিষহ। বিকল্প কোন রোজগার না থাকায় ও উপুর্যুপরি বন্যা এবং অতিবৃষ্টির কারণে ফসল বিনষ্ট হওয়ায় গোয়াইঘাটও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শোনা যাচ্ছে দুর্ভিক্ষের পদ ধ্বনি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তম পুর ইউনিয়নের বেশকয়েক জন পাথর শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সাথে কথা বলে, পাথর শ্রমিক ও ব্যাসায়ীরা জানায় একদিকে করোনার অন্যদিকে কোয়ারি বন্ধ কাজ নেই পাথর শ্রমিক বাচ্চু বলেন “এমনই আছি আমরা কোন রকম পরিবার ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোন মতন দিন পার করছি” বিসনা কান্দি পাথর শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন আমার স্বামী নেই আমি কোয়রিতে চা বিক্রয় করতাম কোয়ারি যদি না হয় তাহলে ছেলে মেয়েকে কি খাওয়াব। হাদার পার পাথর ব্যবসায়ীদের কয়েকজনে সাথে কথা হলে তারা বলেন দেশে করোনা মহামারি ও পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় ব্যবসাও বন্ধ সবমিলিয়ে ভাল নেই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে বড় কষ্টে আছি। হাদার পারের বাজারব্যবসায়ী মাসুক মিয় বলেন পাথরে কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে না দোকান কোঠার ভাড়া টিক মতে দিতে পারছিনা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গুচ্ছ গ্রমে ঘুরে দেখা যায় আশ পাশের কলনি গুলোতে কেউ শুয়ে দিন পার করছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানাযায় কাজ কর্ম নাথাকয়া ঘর ভাড়া পর্যন্ত দিতে পরছি না বসে ধারদেনা করে চলছি। নাম প্রকাশে অনিছুক কয়েক জন পাথর শ্রমিক প্রতিবেদকে বলেন গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় সীমন্তবর্তী হওয়া কারণে কর্মহীন পাথর শ্রমিকরা অনেকে জীবিকার জন্য চোরা কারবারিরা তাদেরকে ব্যবহার করছেন মালামাল আনা নেওয়ার জন্য। এতে করে অন্ধকার পথে জরিয়ে যাচ্ছে অনেকেই গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় আইন-শৃংখলার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় হাদারপার পাথর ব্যবসায়ী সমিতর সভাপতি গোলাম হোসেন বলেন একদিকে মহামারী করোনা অন্যদিকে কোয়ারী বন্ধ থাকায় আমরা যারা পাথর এর সাথে সংশ্লিষ্ট আছি তারা অনেকেই আজ বেকার হয়ে পড়েছি অনেকে আর্থিক ঋণগ্রস্ত ও পাথর ব্যবসায়ী সাধারণ সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান বলেন গোয়াইনঘাট কোম্পানীগঞ্জে পাথর শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ায় ও বারবার বন্যার কারণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ দিশেহারা পয়ে পরছে আত্র এলাকার জনসাধারণ। তাদের সাথে এক আত্মা পোষণ করেন কোম্পানিগঞ্জ ও জাফলং পাথর ব্যবসায়ী বৃন্দ। গোয়াইনঘাট ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি শাহিন আহমদ বলেন আমরা যারা ট্রাক মালিক আছি তারা অনেকেই ট্রাকের কিস্তি দিতে পারছিনা অনেক ঋন- গ্রস্ত হয়ে পরছি। সিলেট জেলার ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং চট্ট-২১৫৯)এর অন্তর্ভুক্ত গোয়াইনঘাট (পশ্চিম) শ্রমিক ইউনিয়নের এর সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকার কারণে পাথর পরিবহনের জন্য এক মাত্র পরিবহন করে আসছিল বর্তমানে কোয়ারী বন্ধ থাকার কারণে ট্রাক শ্রমিক বেকার হয়েছে পরেছে অনেক শ্রমিক মানবতার জীবনযাপন করছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাহাদুরে ও মন্ত্রী প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্ম সংস্থা, সিলেট ৪ নং আসনের বার বার নির্বাচিত এমপি ইমরান আহমদের দিকে আশার আলোর পথ দেখছে এলাকার জনসাধারণ গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ এ অঞ্চলের মানুষের দাবী-পরিবেশের নির্মলতা বজায় রেখে সনাতন পদ্ধতিতে নিরাপদে পাথর আহরনের সুযোগ দিয়ে রক্ষা করা হোক লাখো সহস্রাধিক পাথর শ্রমিকের জীবন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close