https://www.afgoiania.net/profile/daftar-23-situs-slot-online-terbaru-2022-gacor/profile

সিলেটের জৈন্তাপুরে পাহাড় ও রাস্তা কেটে বাড়ি নির্মাণ: ৫গ্রামের জনদূর্ভোগ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃঃ

সিলেটে সর্বোচ্চ সতর্কতার পরও বন্ধ করা যায়নি পাহাড় টিলা কাটা। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও টিলা কাটা হচ্ছে। জৈন্তাপুরে পাহাড় ও রাস্তা কেটে ৫ গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এক বা একাধিক ব্যক্তি। বিশেষ করে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ এলাকা সিলেটের জৈন্তাপুরে গত কয়েকদিন ধরে পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে অব্যাহতভাবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত রোববারও পাহাড় টিলা কাটতে দেখা গেছে।

জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা হর্নিগ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল হান্নান (৫২) গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তাটি কেটে এবং পাহাড় কেটে উত্তর কালিঞ্জি, মধ্য কলিঞ্জি, দক্ষিণ কালিঞ্জি, নয়াগ্রাম এবং হর্ণি গ্রামের মানুষজন, স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। উপজেলার হরিপুর, চিকনাগুল এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড় ও টিলা রয়েছে। এসব টিলা ও পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছে পাহাড়খেকোরা। সরকারি দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা মিলেমিশে পাহাড় ও টিলা কাটছে বলে জানা গেছে। টিলা ও পাহাড়ের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে এলাকার ফসলি জমি। একদিকে জৈন্তাপুর যেমন হারাচ্ছে সৌন্দর্য তেমনি দিন দিন কমছে কৃষি জমি। এলাকাবাসীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

গ্রামের বাসিন্ধা মুছব্বির আলী, নূর উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুস শুকুর, কবির আহমদ, আব্দুল মালিক, ফরিদ আহমদ সহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি জানান একটি কুচক্রি মহলের শলা পরামর্শে আব্দুল হান্নানের পরিবারের একাধিক বাড়ী থাকার পরেও গ্রামবাসীদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করতে চলাচলের রাস্তাসহ পাহাড় কর্তন করে ৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

হর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রায় ৫০গজ সামনে যাওয়ার পর আব্দুল হান্নাননের জমি হওয়াতে সে পাহাড় কর্তন করছেন। যার কারণে চলাচল করতে পারছেন না গ্রামবাসী। স্থানীয় ভাবে একাধিক বার থাকে অনুরোধ করা হলেও সে বিষয়টি তিনি কর্ণপাত করছে না। কোন উপায় না পেয়ে গ্রামবাসীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে। এলাকাবাসীর দাবী হান্নানের এহেন কর্মকান্ডে এবং পাহাড় কাটার কারনে কাটাগাং নদীর ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাবে। এলাকার রাস্তাসহ কয়েকটি বাড়ী নদীগর্ভে বিলিন হতে পারে। পাহাড় ও রাস্তা কর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ৫ গ্রামের বসবাসকারী জনসাধারণের চলাচল রোগী বহন এবং স্কুল কলেজ মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে মারাত্মক দুভোর্গ পোহাতে হবে।

এ ব্যাপারে আব্দুল হান্নান জানান, এদিকে সরকারী কোন রাস্তা নেই, আমার বাড়ী তৈরী করার জন্য পাহাড় কর্তন করছি। পাহাড় কাটার অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের ভূমিতে বাড়ী নির্মাণ করব সেখানে প্রশাসনের অনুমতির কোন প্রয়োজন নেই বলে জানান।

এ বিষয়ে জানতে নিজপাট ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মুজিবুর রহমান মুজি মেম্বার বলেন, আমি বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। পাহাড় কাটার বিষয়টি সঠিক তবে জনসাধারন চলাচলের রাস্তার বিষয় দ্রুত সমাধান করা হবে। পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে পাহাড় কাটার বিষয়টি আপনি কি হিসাবে দেখছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট ও সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ফারুক হোসোইন বলেন, আমি ছুটিতে আছি, এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Loading...