ক্ষমতার অপব্যবহারে মেতেছে ক্ষমতাসীনরা

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গর্ব করার মত ইতিহাস রয়েছে। দেশের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখন বিরাজমান এই বাহিনীর ওপর, রয়েছে আস্তা এবং বিশ্বাস। মানুষ বিশ্বাস করে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্য এখনও দেশপ্রেমের ঘাটতি নেই। যদিত্ত তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আওয়ামী লীগকে অগণতান্ত্রিক উপায়ে আগের রাতে ভোট কাস্ট করে ক্ষমতাসীন করতে ভূমিকা রেখেছে এই বাহিনী। তারপরও তিনটি বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তিশালী বাহিনীর কোনো সদস্যেকে যদি কেউ প্রকাশ্যে হত্যা বা গায়ে হাত তুলে তখন মনে হয় দেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত করা হয়েছে।

রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান সিগন্যালের পাশে ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ এরফান সেলিমক। প্রকাশ্যে জনসম্মুখে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম আহমেদ ও তাঁর স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছে সেলিম পুত্র।

দম্ভ ও ক্ষমতা এদের অন্ধ করে দিয়েছে। ক্ষমতা পেয়ে নিজেদের দেশের রাজা ভাবতে শুরু করেছে সেলিম গং। কার সাথে বা কোথায় কি করছে তা তাঁদের মস্তিষ্কে নেই। যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন বাজি রেখে পাহারা দেয় তাঁদের প্রতি অসম্মান দেখিয়ে কি সংকেত দিচ্ছেন সেলিম পুত্ররা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে ভিডিওতে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদকে মারধর ও বাকবিতন্ডার ফুটেজ যেখানে দেখা যায় তাঁর রক্তাক্ত মুখ, আহা, সাহস দেখেন, তাঁর দাঁত ভেঙে ফেলা হয়। একজন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার সাহস পায় কোথায় থেকে? এদের এত স্পর্ধা হয় কিভাবে? তবে কি ক্ষমতাসীনরা এই বাহিনীর মেরুদন্ড সত্যি ভেঙ্গে দিয়েছে?

তবে অবাক হওয়ার মত ঘটনা হলো জনরোষের ভূমিকম্প কি ভয়ঙ্কর হতে পারে তা টের পেয়েছে হাজী সেলিমের পুত্র এবং তাঁর সহযোগিরা। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সহজে আঁচ করতে পেরে তিনি গাড়িটি ফেলে এর নম্বরপ্লেট ভেঙে চলে যান। এত যখন ক্ষমতা ও দম্ভ তাহলে পালালেন কেন?

ইদানীং লক্ষ্য করছি বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে পুলিশ সদস্যেরা পাগলা কুকুরের ন্যায় মানুষকে কামড় দিচ্ছে। কিছুদিন আগে অব. মেজর সিনহাকে গুলি করে হত্যা করে ওসি প্রদীপ। এই ঘটনার রেশ কাঠতে না কাঠতে সিলেটে নিরহ রায়হানকে ১১৩ টি আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে এসআই আকবর। এরা এত বেপরোয়া কেন হলো? দেশের আইন শৃঙ্খলা কি একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে? প্রজাতন্ত্রের সামান্য একজন কর্মচারি কিভাবে মানুষ হত্যা গুম খুন ও লুপাট করতে পারে? হটাৎ করে এরা হায়েনা দানব বনে গেল কিভাবে?

যে যা-ই বলুক, এদেরকে কিন্তু দানব হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। আওয়ামী লীগ প্রায় এক যুগের ওপরে ক্ষমতায় রয়েছে। এই এক যুগে যা কিছু তাঁরা করেছে, দেশের মানুষ কি তা সহজে গ্রহণ করেছে? না, ধারেকাঁছেও নয়। একটি দল দির্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে একদলীয় শাসন ব্যাবস্থা গড়ে ওঠেছে বাংলাদেশে। এমনিতেই মানুষের ক্ষোভ আওয়ামী লীগের ওপর। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আইন শৃঙ্খলা বা সশস্ত্র বাহিনীকে খারাপভাবে ব্যাবহার করেছে আওয়ামী লীগ। সাম্প্রতিক সেনা প্রধানের ফনোআলাপের টেপ ফাঁসের ফলে যে তথ্য বেরিয়ে আসছে তা সত্যি ভয়াবহ। এখন যুক্ত হয়ে সশস্ত্র বাহিনী সদস্যেদের লাঞ্ছনা ও কিলিং মিশন। নাটক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে বুঝা মুশকিল, তবে দেশপ্রমিক বাহিনীকে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে অপমান করছে তা কখনো প্রত্যাশিত নয়।

সেলিম পুত্র, ওসি প্রদীপ ও আকবর গং কোন শক্তি বলের জোরে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তা দেশবাসী জানে। তাঁদের খুটির জোর কোথায় থেকে আসে তাও আমরা জানি। পায়ের নিচের মাটি যে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে তা ক্ষমতাসীনরা টের পাচ্ছে। তাই বলে দেশপ্রেমিক চৌকস সৈন্যদের গুম হত্যা ও অপমান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে নির্গাত হুমকির মধ্য ঠেলে দিচ্ছেন। আর এই ভয়ংকর কাজে সহযোগিতা করছে গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ।

আজব শাসন কাঠামো! রাষ্ট্রের আইন বড়ই অদ্ভুত। সাংসদ নিক্সন চৌঃ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে যে ভাষায় গালিগালাজ করেছে যা দেশবাসী শুনেছে। এই মূর্খরা সংসদকে অপবিত্র করেছে, কলঙ্কের তিলক লেপটে দিয়েছে। এদের বিচার হয় না। এরা কি ভয়ঙ্কর হচ্ছে দেখুন, সম্মানীত ব্যাক্তি বা নাগরিকদের সাথে বেয়াদবি করতে একটুও দ্বিধাবোধ করে না। ক্ষমতার জোর দেখায়। কিন্তু জনস্বার্থ বিরোধী কোনো অপকর্ম দেশবাসী আর মেনে নিচ্ছে না তা বুঝা উচিত রাষ্ট্রের কর্তাদের। মানুষ এখন ক্ষেপায় আছে।

মোঃ হাফিজুর রাহমান
অনলাইন এক্টিভিষ্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close