নবম দিনের মতো অনশনে প্রাথমিকের প্যানেল প্রত্যাশীরা

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্যানেলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নবম দিনের মতো অনশন কর্মসূচি পালন করছেন চাকরি প্রার্থীরা। এর আগেও একই স্থানে ১০ দিন ধরে অবস্থান করেছেন তারা। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশী কমিটি-২০১৮ এর ব্যানারে এই আমরন কর্মসূচি পালন করছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

আজ বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফুটপাতে শতাধিক চাকরি প্রত্যাশী গাদাগাদি করে কাফনের কাপড় পড়ে শুয়ে ও বসে আছেন। অনেককেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। কেউ আবার কিছুক্ষণ আগে স্যালাইন খুলে ফেলেছেন। ফুটপাতের উপর টানানো দড়িতে একাধিক স্যালাইনের খালি ব্যাগ ঝুলছে।

প্যানেল প্রত্যাশীরা জানান, ৯ দিনের আমরণ অনশনে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে ১৬ জনের স্যালাইন চলছিল।

সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়াতুল ইসলাম রাজীব কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৯ দিন ধরে ঢাকায় এসেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফিরব না। ১৮৮ জন সংসদ সদস্য আমাদের সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। এরপরও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছি না।

চাঁদপুর থেকে আসা আকলিমা আক্তার বলেন, আমরা যোগ্য বলেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আমাদের চাকরির বয়স চলে গেছে। ফলে আমাদের পেছনে তাকাবার সুযোগ নেই। আমরা মানবতার মা প্রধানমন্ত্রীর ডাকের অপেক্ষায় রয়েছি।

জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক নিয়োগে প্রায় ২৪ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৫৫ হাজার ২৯৫ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাকি ৩৭ হাজার ১৪৮ জনকে প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন চাকরি প্রার্থীরা। 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাসান বলেন, ২০১৮ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শূণ্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময় ১৮ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তখনও আরো ২২ হাজার পদ শূণ্য ছিল। বর্তমানে ৩২ হাজার পদে নিয়োগ দিলেও আরো দ্বিগুণ পদ শূণ্য রয়েছে। আমরা যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম তারা সবাই মেধাবী। তাই মুজিববর্ষে প্যানেল করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্যানেলের সুযোগ নেই। এমনকি ২০১৮ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোথায়ও প্যানেলের কথা উল্লেখ নেই। মন্ত্রনালয় থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও বিস্তারিত বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সহকারী শিক্ষকের নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। 

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close