হবিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর গণ্যে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নবীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি আজিজুর রহমান। মামলার আসামিরা হলেন, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন (৫০), ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল আহমদ (৪০), সেবুল মিয়া (২৮), সহিদুল মিয়া (২৫), জিবু মিয়া (২৭) এবং অজ্ঞাত আরও তিন জন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল গ্রামের মহিবুর রহমানের স্ত্রী গত ৮ অক্টোবর বিকালে রিকশাযোগে শেরপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পারকুল গ্রামের মেম্বার দুলাল মিয়ার বাড়ির সামনে আসামাত্র আসামিরা তাকে সিএনজিতে তুলে অপহরণ করে। এরপর একটি অজ্ঞাত স্থানে তিন দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ৪ দিন পর আসামিরা স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে ভিকটিমের স্বামী মুহিবুর রহমান এসে তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবিগঞ্জ জেলা দায়রা ও জেলা জজ মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরীর আদালতে গত ১৮ অক্টোবর নালিশকারীর দরখাস্ত ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। অভিযোগ অপরাধযোগ্য, তাই নবীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জকে মামলা এফআইআর এবং তিন কার্য দিবসের মধ্যে মামলা রুজু করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলার বাদী মুহিবুর রহমান অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে, হুমকি-ধমকি দিয়ে মামলার সাক্ষীদের কাছ থেকে এফিডেভিট নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের লোকজন দিয়ে তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে তিনি নিজ বাড়িতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।

ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, শুনেছি একটি নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না।

ইউপি সদস্য দুলাল আহমদ বলেন, এরকম জগণ্য কাজের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, মামলাটি আদালতের আদেশে রবিবার রাতে রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close