ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষন এবং একজন বাবলা চৌধুরী…

বাপ্পী চৌধুরী ::—

গত শুক্রবার( ২৫শে সেপ্টেম্বর ) রাত সিলেটেবাসীর জন্য এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের রাত ,কারণ ঐ রাতেই সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারীচাঁদ (এম সি) কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ নামধারী ছয় কুলাঙ্গার নরপশুদের হাতে গনধর্ষনের শিকার হন এক গৃহবধূ।

আর এই ধর্ষনের ঘটনায় নির্যাতিতা নারীকে উদ্ধারে সর্ব প্রথম যিনি এগিয়ে আসেন তিনি আর কেউ নয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। এবং বর্তমান জেলা যুবলীগ নেতা মিহিত গুহ চৌধুরী বাবলা, যিনি বাবলা চৌধুরী নামেই বেশি পরিচিত।

কে এই বাবলা চৌধুরী ? তা সিলেটবাসীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার মতো কিছু নেই। টিলাগড়ের গোপালটিলা এলাকার বাসিন্দা মিহিত গুহ চৌধুরী বাবলা। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদকের পরিচিতি বাবলা চৌধুরী হিসেবেই।

সেদিন ছাত্রাবাস এলাকায় বাবলা চৌধুরীর অবস্থান বুঝতে পেরেই পালিয়ে যায় ধর্ষনকারীরা ।

আর বাবলা চৌধুরীর সাহসী ভূমিকাতেই বেরিয়ে আসে গণধর্ষনকারীদের পরিচয়, ভেস্তে যায় ধর্ষনের ঘটনা সমঝোতা বা ধামাচাপা দেওয়ার সকল চেষ্টা। শনাক্ত হয় অপরাধীরা এবং পর্যায়ক্রমে সব আসামীই আইমশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়।

ধর্ষিতা তরুণীকে সহায়তার পাশাপাশি এই ঘটনা জনসম্মুখে নিয়ে আসা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই বাবলা চৌধুরী।

এমন সাহসী ভূমিকার পর ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন বাবলা চৌধুরী। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তার ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। বাবলা চৌধুরীর এমন বীরোচিত ভূমিকার প্রশংসা করে এখন ফেসবুকে দেখাযাচ্ছে হাজার হাজার পোস্ট । তার দেয়া সাক্ষাৎকার গুলোতে দেখা যাচ্ছ লক্ষলক্ষ দর্শক ।

আজকের এই বাবলা একদিনে সৃষ্টি হয়নি , নিজের নীতি ,আদর্শকে জলাঞ্জলি না দিয়ে সর্বদাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে এই বাবলা চৌধুরী ।

যার ফলশ্রুতিতে আজ অনেক ক্ষমতাধরদের ছায়াতলে থেকেও শেষরক্ষা হয়নি ছাত্রলীগ নামধারী ঐ কুলাঙ্গার নরপশুদর ।।নতুবা অতীতের সব ঘটনার মতোই তাদের এ কুকর্মও রয়ে যেত অন্ধকারে,আর সফলতা লাভ করতো এই ন্যক্কারজনক ঘটনা সমঝোতা বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রাতে ধর্ষণের আগেই ঐ নারী ও তার স্বামীর কাছ থেকে টাকা এবং সোনার গহনা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। তারপর ছাত্রলীগ নামধারী ঐ ছয় কুলাঙ্গার নরপশুরা গনধর্ষন করে তরুণীটিকে । ধর্ষণের পর তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেয় তারা।

এমনিকে তাদের ব্যক্তিগত গাড়িও আটকে রাখে এবং গাড়ি ফেরত নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়ে দেয়।

ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে একটা অটোরিকশায় স্ত্রীকে নিয়ে কলেজের পাশের এলাকায় এক দোকানের সামনে অপেক্ষায় থাকে তারা।

এ পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ তাদের ভিড় করে থাকলেও কেউ বাড়িয়ে দেয়নি সাহায্যের হাত। তখন ভীত এই দম্পতির সহায়তায় এগিয়ে আসে এই বাবলা চৌধুরী।

“সুরমা টাইমসের” সঙ্গে আলাপকালে বাবলা চৌধুরী বলেন::—

‘রাত প্রায় ৯টার দিকে আমি আমার বাসা থেকে টিলাগড় পয়েন্টের দিকে যাচ্ছিলাম। দেখলাম একটা ছেলে কান্নাকাটি করছে। এলাকার মানুষ অনেকেই ছিল। আমি গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “কি হয়েছে?” সে ঘটনা জানালে বললাম, “চলেন এখনই।”’

‘এরই মধ্যেই তার মোবাইলে কল আসে। কল দেয় ধর্ষকদের একজন। সে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। আমি কল ধরে তাদেরকে বললাম, “তোমরা কোথায় আছো? থাকো আমি আসছি।” স্থানীয় কয়েকটা ছেলেকে নিয়ে তাদেরই মোটরসাইকেলে করে দ্রুত রওনা দিলাম ছাত্রাবাসের দিকে। মেয়েটা আর তার স্বামীও অটোরিকশায় করে সঙ্গে আসে।’

‘এর মধ্যেই আমরা আন্দাজ করেছি কারা ঘটনা ঘটিয়েছে। এরা দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ ও ছাত্রাবাস এলাকায় ছিনতাই-ইভ টিজিং করছে। একজনের মোবাইলে ফেসবুক থেকে তাদের কয়েকজনের ছবি দেখাতেই মেয়েটির স্বামী নিশ্চিত করে যে এরাই ছিল।’

‘সব মিলিয়ে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই আমরা মূল জায়গায় চলে গেলাম। বিষয়টা রিস্কের ছিল। ওদের কাছে অস্ত্রও ছিল। ভিকটিমের গাড়িটা আগে যেখানে ছিল, সেখান থেকে ততক্ষণে সরিয়ে ফেলেছে। আমরা অন্ধকারে খুঁজতে লাগলাম। তখন দেখলাম পাঁচ-ছয় জন করে ছেলে ঘোরাঘুরি করছে, দূর থেকে আমাদের ফলো করছে। তারপর জোরে চিৎকার দিলাম, “এইখানে কী কোনো মানুষের বাচ্চা নাই? কারা আছে এইখানে? বন্ধের সময় কারা হোস্টেলে থাকে?” এভাবে সামনে যেতে থাকলে দেখলাম কয়েকটা ছেলে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। তাদের হাতে দা-টাও দেখা যাচ্ছিলো।’

‘তারপর আমি দেখলাম কর্নারের একটা ঘরে লাইট জ্বলছে। গিয়ে দেখি ঘরের সামনে অন্ধকারের মধ্যে ভিকটিমের হাজবেন্ডের গাড়িটি রাখা। ঘরের টেবিলের উপর দুটি মোবাইল, গাড়ির চাবি এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা। আমাদের দেখে পালাতে গিয়ে তারা তাদের একটি মোটরসাইকেলও রেখে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে শাহপরাণ থানার ওসিকেও কল দিচ্ছিলাম।’

‘সেখান থেকে গেটে ফিরলাম। দেখলাম ওসি সেখানে দাঁড়িয়ে। তাদের (অভিযুক্ত ধর্ষকদের) গডফাদাররাও চলে এসেছেন মেজরটিলা থেকে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ আর যুবলীগের দুই নেতা। তারা দেখলাম ওসির সঙ্গে কথা বলছে। ওসি ভিতরে যাচ্ছেন না। প্রায় একঘণ্টা গেটেই ছিলেন তিনি, ভিতরে যাননি। তবে একজন এসআই আমার সঙ্গে ভেতরে গেছেন। তাকে সব আলামত দেখলাম।’

‘গেটে থাকা স্থানীয় অনেকেই আমাকে বললেন যে ওই নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। আমি ওসিকে বললাম, “যা প্রমাণ পাওয়া গেছে, সব ডকুমেন্ট আছে আমার কাছে। আপনার অফিসারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। যদি এখন কোনো রকমের উল্টাপাল্টা করেন, তাহলে উপরমহলে প্রমাণসহ দরখাস্ত করব। এত বড় পাপ আপোষে যাবে, এই সেক্রিফাইস করবো না।”’

‘তারপর সব পুলিশই ভিতরে ঢুকেছেন। ওসি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “৮০ পার্সেন্ট কাজ আপনি করে ফেলেছেন, এবার আমরা আসামিদের ধরে ফেলব।” অথচ তিনি হোস্টেলের ভিতরেই যাচ্ছেন না। ঐ নেতারাও ঘটনাস্থল থেকে গেছে রাত ১২টার দিকে।’

‘এদিকে যখন নানা কারণে সময় নষ্ট হচ্ছিল, মেয়েটার অবস্থাও তখন খুব খারাপ। আমি ওর জন্য পানি আনালাম, পুলিশকে বললাম তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে, মেডিকেলে পাঠাতে। “দুই ঘণ্টা ঘরে কী করছেন ভিকটিমকে রেখে।” পরে রাত ১২টার কিছুক্ষণ আগে ভিকটিমকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

‘ঘটনা ৯টার আগের। ছেলেটাকে ৯টার সময় পেলাম। যদি তখন দ্রুত না আসতাম, ওরা (অভিযুক্ত ধর্ষকরা) আরও সময় পেতো, তাহলে সব আলামত গায়েব হয়ে যেতো। ওসিও এসেছেন তার আধাঘণ্টা পর। এর মধ্যে আমি তিনবার কল দিয়েছিলাম।’

‘আমার উপর ওরা গুলি করতে পারতো। কিন্তু সাহস করতে পারেনি, হয়তো প্রকৃতি আমাকে সাহায্য করেছে, আমি ভালো কাজে গিয়েছি বলে। তবে এই রিস্কটা নিয়েছি। নাহলে সব প্রমাণ নষ্ট করে ফেলতো ওরা। কেউ জানতোই না কী ঘটেছে। কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটা চলে যেতো। ওসির কাছে গেলেও বলতো, এমন কিছু ঘটেনি। অনেক কিছুই হতে পারতো। স্পটেও শেষ করতে চেয়েছে, কিন্তু আমরা থাকায় আর সেটা পারেনি।’

বাবলা চৌধুরীর ভাষ্যমতে শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান তিনি আসারও প্রায় আধাঘণ্টা পর।

তারও বেশ কিছুক্ষণ পর্যন্ত পুলিশকে কলেজ ছাত্রাবাসে প্রবেশের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যদিও অনুমতি পাওয়ার আগেই একজন উপপরিদর্শক বাবলা চৌধুরীর অনুরোধে ভিতরে প্রবেশ করেন। আর অনুমতি পাওয়ার পরও অনেকক্ষণ ছাত্রাবাসে ঢোকেননি ওসি।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাবলা চৌধুরী তার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোষ্টও করেন যা “সুরমা টাইমস” পাঠকদের কাছে হুবুহু তুলে ধরা হলো::—

——-{ অনেকেই তো অনেক কৃতিত্বের দাবি করছে প্রিয় জাকির,,

*কিন্ত ধর্ষিতার প্রচন্ড কান্নারত স্বামীকে সাথে করে নিয়ে ধর্ষকদের খোঁজে বের করতে নিজেদের প্রাণের মায়া না করে প্রথমে গিয়েছি আমি ও আমাদের ছাত্রলীগের ৩/৪ জন ছোটভাই ।
** অন্ধকারের মধ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধরতে কলেজ হোষ্টেলের অনেক ভেতরে প্রথমে যাই আমি সহ আমরা ৩/৪ জন।
* শাহপরাণ থানার ওসিকে ঘঠনাস্হলে গিয়ে প্রথমে মবাাইল ফোনে কল করে ঘঠনাস্হলে আসতে বলি আমি।
** ধর্ষিতার স্বামীর গাড়ি ধর্ষণের আলামত সহ উদ্ধার করার কিছুক্ষণ পর শাহপরাণ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআাই সোহেলকে আলামত সহ-ই বুঝিয়ে দেই আমি।
*** ধর্ষক, চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও ঐসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের লাল পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করে টিলাগড়ে এনে এসআই হারুনকে দেই আমি সহ আমরা।
**** ধর্ষকদের হোষ্টেল রুমে সেকেন্ড অফিসার সোহেলকে নিয়ে ঢুকে ঐ রুমের ভেতরে থাকা দুটো মবাইল ফোন ( আমাদেরকে দেখে অপরাধীরা পালিয়ে যাবার সময় সম্ভবত ঐগুলো ফেলে রেখে পালায় ) জব্দ করাই আমি। অবশ্য আরো কিছুক্ষণ পরে আরো অনেক পুলিশ ঐ ঘর তল্লাসি করে ধারালো অস্ত্র সহ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।
**** আমার কথাগুলোর সত্যতার সব প্রমাণ আমার কাছে আছে।
**** ঐসব ধর্ষকরা ভারতে পালিয়ে যাবার জন্য বর্ডারের দিকে গিয়ে থাকতে পারে।।
******* সবশেষে আমি সহ আমরা ঐসব চিহ্নিত অপরাধীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে দিয়ে হত্যার জোড় দাবি জানাচ্ছি।। }——-

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণধর্ষণের মূলহোতা সাইফুর ও রনির কারণেই অতিষ্ঠ ছিলেন এমসি কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ছাত্রীদের কাছে ছিলেন তারা মূর্তিমান আতঙ্ক। তাদের হয়রানির ভয়ে কলেজও ছেড়েছেন কয়েকজন ছাত্রী।

সেই সাথে তরুণীদের শ্লীলতাহানি করে মুখ না খুলতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়া হত। করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে সরকারিভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তাদের কারণে কর্তৃপক্ষ খুলে রাখতে বাধ্য হয় এমসি কলেজের ছাত্রাবাস। ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান এমনই প্রভাবশালী যে তার দাপটে হোস্টেল সুপারও ছেড়ে দিয়েছেন তার বাংলো।
এতেই কি আর প্রমাণ হয় নেতাগিরি? তার প্রমাণ রাখতে গত শুক্রবার ছাত্রাবাসে এক দম্পতিকে তুলে এনে স্বামীকে ব্যাপক মারধর আর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে সাইফুর রহমান ও তার সঙ্গীরা। ঘটনা জানাজানি হতে ‘মাথার ছাতা’গুলো যখন একে একে সরে গেলো। তখন চোখে সর্ষেফুল দেখে সাইফুর ও তার সঙ্গীরা। এমনকি শখের দাড়ি কেটে এলাকা ছাড়ার ফন্দি করে সে।
২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সাইফুর দ্বিতীয়। সে চান্দাইরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও চান্দাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। পরে তাজপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। সেখানেই মূলত সে রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। এইচএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণের পর সে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে ভর্তি হয়। যদিও গেল দু’একবছর ধরে সে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ চলে যাওয়ায় সে বর্তমানে এমসি কলেজের শিক্ষার্থী নয় বলেও জানিয়েছেন এমসি কলেজের বেশ কিছু শিক্ষার্থী।এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাসে এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে সাইফুরের হাত ছিলো না। ছাত্রাবাসে অবৈধ সিট দখল, সিট বাণিজ্য, খাবারের টাকা না দেওয়া, ক্রীড়া সামগ্রীর জিনিসপত্র বিক্রিসহ একাধিকবার ফ্রিজের টাকা তুলে তা আত্মসাত করে সাইফুর। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে সে দলবল নিয়ে রেস্টুরেন্টে ও বিভিন্ন দোকানে খাওয়া দাওয়া করতো। তার বিরুদ্ধে বাকিতে খাওয়ার এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু রেস্টুরেন্টে নয়, সাইফুর, রনি, অর্জুন, মাহফুজ টিলাগড় ও বালুচরের সেলুনগুলোতে টাকা না দিয়েই চুল ও দাড়ি কাটতো। টাকা চাইলে দোকান ভাংচুরের ভয় দেখাতো। কলেজের এমন কোনো নিয়মিত ছাত্রী নেই যে সাইফুরকে ভয় পেতো না! ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রীদের ইভটিজিং করা ছিলো তার নেশা। কলেজের ভেতরে প্রকাশ্যে তরুণীদের ওড়নায় টান দেওয়া ছিলো তার খুব সাধারণ একটি কাজ।

উল্লেখ্য, সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রবাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। শুক্রবার (২৫শে সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যারাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টায় শাহপরাণ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতা গৃহবধূ ও স্বামীকে উদ্ধার করে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার এক গৃহবধূ। এসময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এম. সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনির নেতৃত্বে স্বামী-স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ১০টায় শাহপরাণ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতিতাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এই গণধর্ষণের ঘটনায় গত শনিবার (২৬শে সেপ্টেম্বর) সকালে ৯ জনকে আসামি করে শাহপরাণ থানায় ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজহারনামীয় আসামিরা হলেন- এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত এবং বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।

এদিকে, এ ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। গণধর্ষণ ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ ক্যাডার এম. সাইফুর রহমানের রুম থেকে দেশিয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শাহপরাণ থানা পুলিশ এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়। এসময় সাইফুরের রুম থেকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪টি রামদা, ১টি ছোরা ও জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত ২০১২ সালে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ৪২টি কক্ষ এ বখাটে নষ্ট রাজনীতির দুর্গন্ধ ছড়ানো সশস্ত্র ক্যাডাররা আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করেছিল। সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অসহায়ের মতো কেঁদেছিলেন। সেদিন তাদের বিচার হয়নি। ছাত্রাবাস নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে। এলাকার কর্তৃত্ব যাদের দখলে ছিল মাঝখানে তারা আরও বেপরোয়া হয়েছে। এদের প্রতিরোধে রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনিক শক্তি এমনকি সামাজিক শক্তিও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সিলেটের মানুষের আত্মমর্যাদা ও বিবেকবোধের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিও দিনে দিনে নিভতে বসেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে এ রকম গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে। সন্দেহভাজন আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারে ছয়জনের নাম উল্লেখ করলেও অজ্ঞাত আরও তিনজন রয়েছে।

আসলে মানুষ মানুষের পাশে থাকলে অপরাধ করতে ও অপরাধীরা চিন্তা করবে।
বাবলার মত মানুষরা এভাবে পদক্ষেপ নিলে মেয়েরা সমাজে চলতে ভয় পাবে না।

বাবলাদেরকেও চিনে রাখুন। এরাও ছাত্রলীগের প্রোডাক্ট। ছাত্রলীগে যেমন ধর্ষক আছে তেমন ধর্ষণের প্রতিবাদকারী বাবলারাও আছে।

বাবলার মত মানুষরা এভাবে পদক্ষেপ নিলে মেয়েরা সমাজে চলতে ভয় পাবে না।আদর্শ মরে না, দুঃসময়ে বিএনপি জামাতের অত্যাচার সহ্য করা বাবলা আদর্শের কাছে মাথা নত করেনি। সম্মানিত ভাই বোনেরা, ছাত্রলীগ বাবলাদের মতো রত্ন তৈরি করে, ধর্ষক তৈরি বা প্রশ্রয় দেয়া কোনো দল বা সংগঠনই শেখায় না।

পরিশেষে একটি কথাই বলবো সিলেটকে বলা হয় ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি আধ্যাত্মিক রাজধানী। সেই পবিত্র ভূমিতে শুয়ে আছেন ধর্মপ্রচারক হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মতো আল্লাহর অলি। আর পাশবিক ধর্ষণের ঘটনা যেখানে ঘটেছে সেটি ঐতিহ্যবাহী সিলেট মুরারি চাঁদ কলেজের ছাত্রাবাসে। সিলেটের ধর্ষকদেরসহ কোনো ধর্ষকেরই ক্ষমা নেই।বাবলা চৌধুরীর মতো মানুষের কারণে ঘটনা ফাঁস না হতো, তাহলে এসব নেতাদের আর আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর মাধ্যমেই বিষয়টি হয়তো ধামাচাপা পড়ে যেতো।’

বাবলারাই আদর্শিক ছাত্রলীগের উত্তরাধিকার। রাজনীতিতে বাবলা কতটা মূল্যয়ন পাবে তা জানি না। তবে এ পাশবিকতার বিরুদ্ধে সে-ই নায়ক। ছাত্রলীগের অহংকার। সে-ই ধর্ষকদের চিনিয়ে দিয়েছে। রাজনীতি বাবলারাই করবে। আর রাজনীতিতে ব্রান্ড বলে কিছু থাকলে তার জলন্ত উদাহরন বাবলা চৌধুরী । { এক কথায় ওয়ান আর্মি।} যারা অন্যায়ের সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপোষ করতে শেখেনি ।

তাই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়, 

‘অন্যায়ের কাছে কভু নত নাহি শির

ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর’

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close