ধর্ষক কি ছাত্রলীগের হয়?

মুরারিচাঁদ কলেজে যে অপরাধ ঘটেছে তা মোটেও বিচ্ছিন্ন নয়। এরকম নিকৃষ্ট ঘটনা সারা দেশে অহরহ হচ্ছে। এর মূলে যে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন বিপথগামী নরপশুরা ছাত্রলীগ বলেন আর ছাত্রদল সব দলের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠে। ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে এরা দল বদলায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এরা ক্ষমতাসীনদের পৃষ্টপোষকতায় খুন, ধর্ষণ , অপহরণ, ডাকাতি, চাদাবাঁজী, লুটপাট, মাদক সেবন ও অবৈধ অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হয়।

১৯৯৮-৯৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরি উৎসব করে পালন করেছিল। সেই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও অর্জনকে কলঙ্কের তিলকে লেপটে দিয়েছিল ছাত্রলীগ।

বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় সীমান্ত নামে এক ছাত্রদল ক্যাডার একজন ছাত্রীকে ‘লাঞ্ছিত ও অপহরণ’ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কিছুই করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জসিমউদ্দিন মানিকে শাস্তি দিলেও রাষ্ট্রিয় আইনে তাঁর কিছুই হয়নি বরং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা তাকে দেশ থেকে পালাবার সুযোগ করে দিয়েছিল। মানিক নিরাপদে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায়। কিন্তু রেখে গেছে তাঁর কুলাঙ্কার উত্তরসূরি যাদের দাপট ও হিংস্রতায় আতঙ্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা। মানিকে আদর্শ ধারণ করে ছাত্রলীগের নেতারা আজও ধর্ষণ করে রক্তাক্ত করছে বাংলাদেশে মাটি।

নগরীর টিলাগড়ে মুরারিচাঁদ কলেজ কেন্দ্রিক আধিপত্য একচেটিয়া বজায় রাখার জন্য আইনজীবী রণজিৎ সরকার ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আজাদুর রহমান আজাদ ছাত্রলীগের বেপরোয় বখাটে ছেলেদের লালন পালন করে আসছেন। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অভিযুক্ত ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক নেতারা এর দ্বায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। রাজনীতির ছত্রছায়ায় বখাটে ছেলেগুলো পড়ালেখায় মনোযোগী না হয়ে পেশি শক্তি প্রদর্শনে বেশি কমফোর্ট মনে করে। পেশি বলতে শুধু গায়ের জোর নয় ক্ষমতার জোরও বটে। দল ক্ষমতায়, যা ইচ্ছে তা কর, বড় ভাইয়েরা রক্ষা করবে। এই রাজনৈতিক প্রশ্রয়দাতাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়োয়া ছেলেগুলো ধর্ষক , ডাকাত, চাদাবাঁজ, দুর্নীতিবাজ ও গুন্ডা হয়।

ছাত্রলীগ নেতাদের দ্বারা বাংলাদেশে যত বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে তার দ্বায় সংগঠনটি সবসময় এড়িয়ে যায়। এটি এখন তাদের একটি চারিত্রিক বদঅব্যাসে পরিণত হয়েছে। সেই একই গান গত এক যুগ ধরে শুনে আসছি। যেমন, অপরাধীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়; অপরাধীরা শিবির-ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ করেছে; ধর্ষকের স্থান ছাত্রলীগে নেই; ছাত্রলীগের কেউ কোনো মেয়ের দিকে খারাপ নজরে তাকতে পারে না, অথবা অপরাধীকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই স্লোগান প্রায় মুখস্ত হয়ে গেছে ভোক্তভোগি নিরহ মানুষের। সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনার পর একই কাদায় কথা বলেছে ছাত্রলীগ। এমনকি ছাত্রলীগের একটি অংশকে উল্লাস করতে দেখা গেছে। অথচ প্রশাসন তাদের পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আজব কাহিনী! স্বাধীন রাষ্ট্রে ধর্ষকদের উল্লাস অশনিসংকেত বলা যায়।

মোঃ হাফিজুর রাহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close