বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিভাবে ছাত্রাবাস খোলা থাকে তা খতিয়ে দেখা হবে

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গনধর্ষণ::

নিজস্ব প্রতিবেদক::

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়য় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল সোমবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল খবীর চৌধুরী নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেছেন, করোনা সংক্রমণের কারণে সাড়ে ছয় মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কিভাবে ছাত্রাবাস খোলা থাকে এবং সেখানে ছাত্ররা অবস্থান করে তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনার মূল তদন্ত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা দেখবো কলেজ প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিলো কী না, নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি ছিলো কী না- এসব খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য সংশ্লিস্ট সকলের সাথে কথা বলবো। প্রয়োজনে নির্যাতিত তরুণীর সাথেও কথা বলবো।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ( কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী জানান, কমিটি তিনদিনের মধ্যে প্রাথমিক ও এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্নাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের ঘটনাস্থল এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন শাহেদুল খবির চৌধুরী।

এরআগে বিকেল ৫টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত ৩ সদস্যদের তদন্ত কমিটি এমসি কলেজে এসে পৌঁছে। এসময় তারা প্রায় একঘন্টা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও কলেজ গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সাথে বৈঠক করেন।

এরপর ছাত্রাবাসে যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ছাত্রাবাসের নবনির্মিত ভবনসহ বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন। এসময় বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষও কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আনোয়ারুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ কমিটি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা।

প্রসঙ্গত, গত ২৫শ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুইজন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

ওসিসি’তে চিকিৎসা গ্রহণের পর গত রোববার (২৭শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‍্যাব-৯। তাদের মধ্যে ছয়জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও পাঁচ নম্বর আসামি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল হাসান, এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন। আর গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া মাহফুজুর রহমান মাসুমকে সিলেটের শাহপরাণ (র) থানায় রাখা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close