ঐ‌তিহ্যবাহী এমসি কলেজে গণধর্ষণ,ফেসবুকে সরব আসামিরা: ধরতে পারছে না পুলিশ!

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ ও আরও দু তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাও করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত এক ছাত্রলীগ নেতার কক্ষ থেকে পাইপগান, চারটি রামদা, দুটি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ খুঁজে না পেলেও ফেসবুকে সরব ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শনিবার সকালেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন মামলার দুই আসামি।

গণধর্ষণের মামলার ৫ নম্বর আসামি রবিউল হাসান শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,

‘সম্মানিত সচেতন নাগরিকবৃন্দ আমি রবিউল হাসান। আমি এমসি কলেজের শিক্ষার্থী। আপনারা অনেকে চেনেন, আমি কেমন মানুষ তা হয়তো অনেকে জানেন। শুক্রবার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের সঙ্গে কে-বা কারা আমাকে জড়িয়ে সংবাদ করিয়েছেন জানি না। আমি এমসি কলেজের ছাত্র। কিন্তু আমি হোস্টেলে কখনও ছিলাম না, আমি বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও লিখেছেন,

‘আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এই নির্মম গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই, আমাদের পরিবার আছে। যদি আমি এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত থাকি তাহলে প্রকাশ্যে আমাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আমি কোনোভাবেই এই কাজের সঙ্গে জড়িত নই। সবার কাছে অনুরোধ করছি, সত্য না জেনে আমাকে এবং আমার প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের নামে অপপ্রচার করবেন না। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণকারী সব নরপশুকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

একইভাবে মামলার ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম নিজের ফেসবুকে লিখেছেন,

‘এরকম জঘন্য কাজের সঙ্গে আমি জড়িত নই। যদি জড়িত প্রমাণ পান প্রকাশ্যে আমাকে মেরে ফেলবেন। একমাত্র আল্লাহর ওপর বিশ্বাস আছে। আল্লাহ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাকে সুইসাইডের দিকে নিয়ে যাওয়া আপনাদের বিচার আল্লাহ করবেন।’

মামলার অন্যতম আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমের পক্ষে সাফাই গেয়ে হুমায়ুন রশিদ পায়েল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন,

‘এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান মাসুম এমসিতে ছিল না, সে জাফলং ছিল তার বন্ধুদের সঙ্গে। সেখানের লাইভ ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে রয়েছে। সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, মনগড়া নিউজ করে একজন মেধাবী ছাত্রের জীবন নষ্ট করে দেবেন না।’

সন্ধ্যার দিকে রবিউল ছাড়া বাকি সকলের ফেসবুক আইডি ডিয়েক্টিভ করেছেন আসামিরা।

ফেসবুকে সরব থাকার পরও আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারা প্রসঙ্গে শাহপরান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা তাদের গ্রেফতারে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রবাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যারাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টায় শাহপরাণ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতা গৃহবধূ ও স্বামীকে উদ্ধার করে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার এক গৃহবধূ। এসময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এম. সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনির নেতৃত্বে স্বামী-স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত ১০টায় শাহপরাণ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতিতাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এই গণধর্ষণের ঘটনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ৯ জনকে আসামি করে শাহপরাণ থানায় ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজহারনামীয় আসামিরা হলেন- এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত এবং বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।

এদিকে, এ ঘটনার পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। গণধর্ষণ ঘটনার মূল হোতা ছাত্রলীগ ক্যাডার এম. সাইফুর রহমানের রুম থেকে দেশিয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শাহপরাণ থানা পুলিশ এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়। এসময় সাইফুরের রুম থেকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪টি রামদা, ১টি ছোরা ও জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close