নগরীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীর দম্ভক্তি: প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারেবেনা !

বিশেষ প্রতিবেদক::

দেশব্যাপী চলছে মাদক বিরোধী অভিযান যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চলছে অভিযান এতোকিছুর পরও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর ও তার পাশ্ববর্তি এলাকার মাদক ব্যবসার প্রধান হোতা মামুন হোসেন ওরফে (ইয়াবা মামুন),

ইয়াবা মামুনের বেপরোয়া ও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির কারনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নিরীহ এলাকাবাসী।

উপশহরের এইচ ব্লকের এক,দুই,তিন,নং রোডসহ বিভিন্ন এলাকাকে ইয়াবা মামুন মাদকের স্বর্গরাজ্য পরিনত করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন সিলেটের শাহপরান (রঃ) থানাধীন শহরতলির পীরেরবাজারের মন্নান মিয়া ওরফে ভাংঙ্গাড়ী মন্নানের ছেলে ইয়াবা মামুন প্রশাসনের নাকের ডগায় একঝাঁক মাদক ব্যবসায়ী লালন করে দেদারসে মাদকের রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ মাঝে মধ্যে রাতের বেলায় শাহপরান থানার দুই একজন অফিসারদের সাথে মটর সাইকেল অথবা টহল পুলিশ ডিউটির সিএনজি অটোরিকশায় মামুনকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামুন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী জেনেও পুলিশ সেখানে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

পুলিশের এমন নীরব ভুমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে গুটা প্রশাসন,অনেকে আবার বলছেন ইয়াবা মামুন একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী হওয়া সত্বেও পুলিশের সাথে তার এমন সখ্যতা দেখে মনেহয় সে নিজেই পুলিশের লোক ।

পুর্বে জাল টাকা সহ র‍্যাবের হাতে আটক ইয়াবা মামুন

তথ্যমতে আরো জানাজায় যে মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুন দীর্ঘদিন জাল টাকার ব্যবসায় নিয়জিত ,এবং জাল টাকা সহ র‍্যাবের হাতে সে গ্রেফতারও হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ মাদক বিক্রেতা জানান ক্রেতারা যখন পুলিশের ভয়ে একটু দূরে থাকেন আমি টাকা নিয়ে ইয়াবা, গাজা, মামুন ভাইয়ের কাছথেকে এনে দেই। মামুন ভাই আমাদের কমিশন দেন মামুন ভাইর কাছ থেকে অনেক বড় বড় বেটারা ইয়াবার চালান নিয়ে বিক্রি করছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাদকসেবী জানান পুলিশের চাপ থাকলে মামুনকে ফোন দিলে সে নিজেই ইয়াবা যথাস্থানে পৌছে দেয় ।।

তিনি আরো জানান ইয়াবা মামুনকে শাহপরান থানার ওসি কাইয়ুম ভাই খুব মায়া করেন,তার সাথে ফোনেও কথাহয়। মামুন যে মোটরসাইকেল দিয়ে ইয়াবা বহন করে সেই মোটরসাইকেলের মালিক সুমন নামের জনৈক ব্যক্তি। সুমনের কাছথেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেল আটক করে রেখে দেয় মামুন।

ইয়াবা মামুনের নেতৃত্বেই উপশহর,তেররতন এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। এই ইয়াবা উপশহরের ওলি গলিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফোন করলেই মিলছে পাইকারী ও খুচরা ইয়াবা ।

এখানে উল্লেখ্য যে গত ১২ই মার্চ, ২০২০ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট নগরীর উপশহর এ ব্লকের ৮ নং রোড থেকে ৯৪৫ পিস ইয়াবাসহ ইয়াবা সম্রাট মামুনের সহযোগী জালাল উদ্দিন নামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক বিক্রির নগদ টাকা ইয়াবা ও ৩টি মোবাইল সেট এবং তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারসহ আটক করে র‌্যাব। জালাল ইয়াবা মামুনের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নগরীতে মাদকসেবীদের কাছে খুবই পরিচিত মুখ ।

যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিতি অবলম্বন করছেন এবং জননেত্রির নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন, সেখানে পুলিশের নাকের ডগায় প্রশাসনকে বূদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উল্টো প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে কিভাবে প্রকাশ্যে যুব সমাজ বিদ্ধংসীকারী ইয়াবার সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা মামুন।তানিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ।

সরকার মাদক নির্মূলে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছেন যা এখনো চলমান, কিন্তু নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহরের ইয়াবা স্বর্গরাজ্যখ্যাত এইচ ব্লকে মাদকবিরোধী অভিযানের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে এখানে ইয়াবা মামুন আরও বেপরোয়া। এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে নগরীর উপশহরের মাদক বিরোধী অভিযান।

অজানা ক্ষমতার বলে দেশে চলমান মাদক অভিযান চলাকালেও ইয়াবা মামুনের দাপটের সাথে ইয়াবা ব্যবসা অনেকটা আতঙ্কিত করে তুলেছে শান্তি প্রিয় উপশহরবাসীকে।

অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদকে বলেছেন আমরা আমাদের সন্তান্দের নিয়ে খুব দুঃশচিন্তায় আছি কারন এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়াযায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, যা আমাদের যুবসমাজকে ধংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ,ইয়াবা মামুন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে ইয়াবা বিক্রি করে । তাই ইয়াবা মামুনের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন এইসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমনটিই আশা করছেন স্থানীয়রা।

মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুনের বিরুদ্ধে এধরনের বিস্তর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা জানতে এ ব্যাপারে ইয়াবা মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি দম্ভোক্তির শুরে বলেন হ্যাঁ আমি ইয়াবা ব্যবসা করি তাতে আপনাদের কি হয়েছে পারলে কিছু করেন, যতদিন শাহপরান থানার ওসি কাইয়ুম ভাই আমার সাথে আছেন,ততদিন আপনারা কেনো প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারেবেনা প্রশাসন জানে আমি ইয়াবা ব্যবসা করি,এবং তাদের নিয়মিত মাসোহারা দেই।

এ ব্যাপারে জানতে সিসিক ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম এর মুঠোফনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এব্যপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া ) জ্যোতির্ময় সরকার পিপিএম বলেন মাদকের বিরুদ্ধে (এসএমপি) সর্বদাই জিরো টলারেন্সে আছে,আমরা যেখানেই মাদকের সন্ধান পাবো সেখানেই অভিযান হবে । আর বিষয়টি আমি এখনই ওসি সাহেবকে অবগত করছি ,আজই অভিযান পরিচালিত হবে ।

আর ইয়াবা ব্যবসায়ী যে আমুক তমুকের নাম বলেছে তা সম্পূর্ণ ভূয়া কথা । মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই,এরসাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।।

এ ব্যাপারে শাহপরান (রহঃ)থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি আসলে এরকম কোন লোককে চিনিনা জানিনা,তবে আমি অফিসার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই চন্দ্র শেখর বড়ুয়াকে বলে দিচ্ছি একটু তথ্য দিয়ে তাকে সাহায্য করবেন।

এ ব্যপারে জানতে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই চন্দ্র শেখর বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী আমাদের পুলিশ বাহিনী।..

মামুন ওরফে ইয়াবা মামুনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিস্তর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুরমা টাইমসের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে অজানা অনেক তথ্য, অনুসন্ধানে শাহপরান (রহঃ)থানা পুলিশের জনৈক এস আই”র সাথে মামুনের গভীর সখ্যতা এবং ইয়াবাসহ অবৈধ অনেক ব্যবসার পরিচালাকারী ব্যবসায়ীদের কাছথেকে নিয়মিত বখরা আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের অডিও এবং ভিডিও চিত্র সুরমা টাইমস কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত আছে , যা পর্যায়ক্রমে পাঠকদের সম্মুখে তুলেধরা হবে ।।

*** আগামী পর্বে থাকছে মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুনের আমলনামা…

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close