‘সোর্সের’ অপকর্মে ফাঁসছেন বহু পুলিশ কর্মকর্তা

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবী থানায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পুলিশ সোর্স রিয়াজুল শক্তিশালী বোমাটি নাড়াচাড়া করার সময় ঘটে বিস্ফোরণের ঘটনা। এ ঘটনার পর ওই থানার কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি হতে হয়।

সাড়ে ছয় বছর আগে একই থানায় পুলিশি হেফাজতে জনি নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চলতি মাসে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত। ওই ঘটনার মূলেও আছে দুই সোর্সের অপকর্ম।

সাম্প্রতিক এমন কয়েকটি ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় আসে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘সোর্সের’ অপকর্মের বিষয়টি। এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় চা দোকানি বাবুল মাতুব্বরকে পুলিশের সামনেই পুড়িয়ে মারে তাদের সোর্স দেলোয়ার, আয়ুব আলী ও রবিনসহ কয়েকজন।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় চাঁদা না দিলে ও ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলে তুচ্ছ কারণে সাধারণ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে পুলিশ সোর্সরা। নানা অপরাধে নিজেরা জড়িত থাকলেও এরা পুলিশের ক্ষমতায় বলীয়ান। ফলে তাদের সঙ্গে অনেকেই বিরোধে যান না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিস্তর অভিযোগের পরও প্রযুক্তির যুগেও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না পুলিশের বিতর্কিত এই ‘সোর্স’ বা স্থানীয় ভাষায় ‘ফর্মা’ কালচার। মাঠ পর্যায়ের একশ্রেণির অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে ভয়ঙ্কর এসব সোর্স মাদক কারবার, ফুটপাতে চাঁদাবাজি, হত্যা ও অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এদের অনেকের নামে রয়েছে পুরনো মামলা। অপরাধ সম্পর্কে জানতে, অপরাধী ধরতে ও তদন্তে তথ্য সংগ্রহ করতে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার’ এই পুরনো কৌশল বেশির ভাগ থানা এলাকায় এখনো চলমান।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close