গোয়াইনঘাটে অতিমাত্রায় বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে ফের বন্যা ফসলে বেপক ক্ষতির আশস্কা!

গোয়াইনঘাট থেকে দূর্গেশ সরকার(বাপ্পী) :

কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় হাজার হেক্টর জমির বোনা আমন ফসল। আমন ধানের বীজতলাসহ সবজি ক্ষেত অতিমাত্রায় বৃষ্টির ও বন্যা পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসল বেপক ক্ষতির আশস্কায় কৃষক। রোপায়িত জমির বোনা আমন ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা । নতুন করে ধানের চারা রোপণের সময়ও প্রায় শেষ। কাজেই এ যাত্রায় যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে, তাদের আর কোন উপায় থাকবে না। নতুন করে বন্যার পানিতে জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় নানা আশঙ্কায় দিন কাটছে গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকদের । এই বিশেষ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে নানা আশঙ্কা প্রকাশ করে কৃষকরা জানায়, এ যাবত কালে এমন দুর্যোগ তার কখনোই দেখেননি। এ বছর যতবার বন্যা হয়েছে, আর বন্যায় তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে এমন নজিরাও এর আগে খুব কমই দেখেছেন বলে জনান অত্র এলাকার মানুষ। এর উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, গত কয়েক দফা বন্যায় তাদের আমন ধানের বীজতলা থেকে শুরু করে বোনা আমন নষ্ট হয়েছে একাধিকবার। তারপরও গেল কয়েকদিন আগে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এক বিঘা পরিমাণ জমির জন্য (তেত্রিশ শতাংশ) ধানের চারা কিনে তা রোপন করেছেন অনেক কৃষক। কিন্তু নতুন করে বন্যা দেখা দেয়ায় সেই ফসলও এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। শেষ রক্ষা হবে কিনা এনিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটছে অত্র এলাকার কৃষকদের । সরজমিনে নিয়ে দেখা যায়, টানা কয়কে দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতে পাহাড়ী ঢলে পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পানি কারণে বুধবার থেকে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত যা বৃদ্ধি পেয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের আসাম পাড়া, আসাম পাড়া হাওর, ছৈলাখেল অষ্টম খন্ড (আংশিক এলাকা) নবম খন্ড, সানকি ভাঙ্গা হাওর, নয়াগাঙের পার, বাউরবাগ হাওর, ভিত্রিখেল হাওর, আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর, তিতকুল্লি হাওর, বুধিগাঁও হাওর, রাজবাড়ি কান্দি গ্রামসহ পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল, নন্দীরগাঁও এবং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে করে কৃষকের বোনা আমন ও আমন ধানের বীজতলা এবং সবজি ক্ষেতসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক হেক্টরের বেশি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে । এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুলতান আলী জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে আজ বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০০০ হেক্টর বোনা আমন তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে এর পরিমান আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আর যদি বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় তাহলে, তলিয়ে যাওয়া ফসলের তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close