জামায়াত নেতা ফয়জুর বাহিনীর নির্যাতন থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসুন

সংবাদ সম্মেলনে গোয়াইনঘাটের বাবুল আহমদ

জামায়াত নেতা ফয়জুর রহমান ও তার বাহিনীর নির্যাতন এবং সম্পদ সুরক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁওয়ের সামছুল হকের ছেলে বাবুল আহমদ। রোববার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সেই নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছেন কাকুয়াখাই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে জামায়াত নেতা ফয়জুর রহমান। যারা ভোট কেন্দ্রে যাবে তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন তিনি ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এসবে পাত্তা না দিয়ে নির্ধারিত দিনে কাকুয়াখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমি ভোট দিতে যাই। দুপুরে ফেরার পথে স্কুল মাঠে ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে আকলু মিয়ার ছেলে মোশতাক আহমদ, মোবারক আলীর ছেলে সাইদুজ্জামান, আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল হান্নান, সফর আলীর ছেলে আজমল আলী, আম্বর আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন, মুবশি^র আলীর ছেলে আতাউজ্জামান, ছইদ আলীর ছেলে হাসন আলী, আহমদ আলীর ছেলে আবুল হোসেন, ফরমান আলীর দুই ছেলে বিলাল উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন, ইসরাখ আলীর দুই ছেলে সায়েদ আহমদ রাজা ও শামীম আহমদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসী রড- রোল ও লাঠি নিয়ে আমার উপর হামলা করে। তারা পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। অন্যান্যরাও হাল্কা জখম হন। আমাকে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে নেয়া হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ হয়ে আমি ৪ জানুয়ারি উল্লিখিতদের আসামী করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করি ( নম্বর-৯, ০৪/০১/২০১৯)। আমার মামলায় ১ নম্বর আসামী হিসাবে ফয়জুর রহমানের নাম উল্লেখ করলেও থানার তৎকালীন ওসি আমার ভাইকে ভূল বুঝিয়ে তার নামটি বাদ দিয়েছিলেন। তারই খেসারত দিতে হচ্ছে আমাকে।
তিনি বলেন, ফয়জুর রহমান জামায়াত নেতা হলেও আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে। তাছাড়া মামলাবাজ হিসাবেও তিনি কুখ্যাত। তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে আমার উপর মিথ্যা অভিযোগে অন্তত ৯টি মামলা দায়ের করিয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলায় আমাকে ১৬ দিন জেল খেটেছি। তার এসব মামলা মোকাবেলায় আজ আমি নিঃস্ব হওয়ার পথে। এছাড়া তার বাহিনীর সদস্য মুসলিম আহমদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে দিয়ে জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি জমি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করিয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ভাই সিরাজুল হক প্যারালাইজড, অপর ভাই ফারুক আহমদ ২০১৮ সাল থেকে প্রবাসী, তবু ২০১৯ সালে দায়েরকৃত একটি মামলায় তাকেও আসামী করিয়েছে এই কুখ্যাত মামলাবাজ। শুধু মামলা দিয়ে হয়রানিই নয়, এখন তারা আমার সম্পদ দখল করতেও মরিয়া হয়ে লেগেছে। আমার ভূমিতেই ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরি করতে শুরু করেছেন উজুহাত গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে মুরাদ উদ্দিন। প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি জানান, ফয়জুরের ডানহাত সাইদুজ্জামানের ভাতিজা আলমগীর ও আনোয়ারের কাছ থেকে এ জমি তিনি কিনেছেন। অথচ ২০০৩ সালে সাইদুজ্জামান গংদের কাছ থেকে এই জমি আমি ক্রয় করি। থানায় গেলে উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখতে চান ওসি। তারা প্রথম দফায় ব্যর্থ হলে ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায়ও থানায় প্রমাণ হয় যে, আমার কাছে বিক্রির পরেও তারা একই জমি বিক্রি করেছেন মুরাদের কাছে। কোন সমাধান না হওয়ায় প্রভাবশালী এই চক্রটি এখন আমার ভিটেমাটি কেড়ে নিতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি বলেই আজ জামায়াত নেতার চক্রান্তের শিকার আমি। তাদের ভয়াবহ হামলায় আহত হয়ে ঠিক মতো হাটতে পারিনা, তার উপর তারা বার বার আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার এবং গোয়াইনঘাট ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

— বিজ্ঞপ্তি ।।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close