অপমৃত্যুর ঘটনার পর ১০ লাখ টাকা না দেয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণি করছেন প্রিয়াংকা

জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা হলধর চন্দ্র পাল

দুর্ঘটনাবশত আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার পর নিহতের বোনের দাবি করা ১০ লাখ টাকা না দেওয়ায় একটি দুর্ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলা দিয়ে হয়রাণি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার সেনগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হলধর চন্দ্র পাল। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা হলধর চন্দ্র পাল বলেন, আমার বড় ছেলে দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিমাদ্রী পালের সাথে প্রায় ৩ বছর পূর্বে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার কঠালপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে সিলেট নগরের সোবহানীঘাটস্থ মৌবন ১০৪ নং বাসায় বসবাসকারী প্রদীপ পালের বড় মেয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ কম্পিউটার ডাটা অপারেটর পদে কর্মরত থাকা লাকী রাণী পালের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর আমার ছেলের ঔরষজাত দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ ভালোই কেটেছে।
তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট রাতে প্রতিদিনের মত বউমা লাকী রাণী পাল রান্নাঘরে মাটির চুলায় ভাত রান্না করছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে দুর্ঘটনাবশত চুলার পাশে থাকা কুপি বাতি থেকে আমার বউমার শাড়িতে আগুন লেগে যায়। চিৎকার শুনে প্রথমে আমি রান্না ঘরের দিকে ছুটে যাই। করিডোরে বউমার শরীরে আগুন দেখে আমি আগুন আগুন বলে চিৎকার করি এবং কাথা কম্বল গায়ে জড়িয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী এবং পাশের বাসা থেকে আমার ছেলেরাসহ অন্য লোকজন এগিয়ে আসেন। আগুন নিভে গেলে আমরা দ্রুত লাকী রাণী পালকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে ঘটনার সময় আমার বড় ছেলে হিমাদ্রী পাল তার ছোট ভাইদের নিয়ে পাশের একটি বাসায় তাশ খেলছিল। অঘিœকান্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘরে এসে স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে ছেলেটি হতভম্ব হয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে গিয়ে আমি নিজে ও আহত হই। হাসপাতালে আমি নিজেও চিকিৎসা নিয়েছি।
মুক্তিযোদ্ধা হলধর চন্দ্র পাল আরও বলেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে আমার পুত্রবধু লাকী রাণী পাল মৃত্যুবরণ করেন। হাসপাতালে নেয়ার পর লাকী রানী পাল কর্তব্যরত চিকিৎসক ও তাঁর পিতা প্রদীপ পাল এবং আমিসহ অনেকের সম্মুখে বলেছেন কুপি বাতি থেকেই তার শরীরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। লাকী রাণী পালের পিতা প্রদীপ পাল মেয়ের বক্তব্য শুনে ১০ আগস্ট এসএমপির মোগলাবাজার থানায় হাজির হয়ে লিখিতভাবে তার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ প্রেরণ করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমার মেয়ের জামাতা হিমাদ্রী পাল, কাকাত ভাই শাওন পাল শুভসহ থানায় হাজির হয়ে জানাচ্ছি, আমার মেয়ে লাকী রাণী পাল গত ৯ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে তার শ^শুর বাড়ির রান্না ঘরে রান্না করার সময় মাটির চুলার পাশে থাকা কুপিবাতি থেকে অসাবধানতাবশতঃ তার পড়নের শাড়িতে আগুন লেগে সারা শরীর জ¦লসে যায়। আহত অবস্থায় তার শ^শুর বাড়ির লোকজন সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর আমি আমার মেয়ের সাথে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানি। হাসপাতালে রাত আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আমাদের কারো কোনো অভিযোগ নেই। তার মৃত্যৃর জন্য কেউ দায়ী নয়। এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানাপুলিশ একটি অপমৃত্যু মামালা দায়ের করে। যার নং ০৬/২০।
প্রদীপ পাল একইভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ সৎকারের জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পর হঠাৎ করেই লাকী রাণী পালের ছোট বোন প্রিয়াংকা রাণী পাল গত ১৭ আগস্ট মোগলাবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যৌতুকের জন্য মৃত্যুর ঘটানো ও সহায়তার অপরাধ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মোগলাবাজার থানার মামলা নং ১২। বর্তমানে মহানগর হাকিম আদালতে মোগলাবাজার জি.আর ১১৬/২০২০ রুপে চলমান আছে।
তিনি বলেন, ওই মামলায় আমার ছেলে হিমাদ্রী পালকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আমাকে, আমার স্ত্রী শিখা পাল ও ছোট ছেলে হিমেল পালকে আসামী করা হয়েছে। অথচ আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই বয়োবৃদ্ধ এবং দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। এ মামলায় ২ নম্বর আসামী হতে ৪ নম্বর আসামী বর্তমানে জামিনে রয়েছি। অপরদিকে ১ নম্বর আসামী হিমাদ্রী পালকে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ পরবর্তী ৪ সপ্তাহের মধ্যে দায়রা জজ আদালতে আত্বসমর্পনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। একটি অপমৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা মামলায় রুপান্তর করতে লাকীর বোন প্রিয়াংকা রাণী পাল অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। যেখানে তাদের পিতা নিজের মেয়ের মুখ থেকে বক্তব্য শুনে থানাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন এবং অপমৃত্যু মামলা হয়েছে সেখানে হঠাৎ করে আরেকটি মামলা দায়ের তাদের গভীর মিথ্যা ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি দাবি করেন, আমার বউমার মৃত্যুর তিন দিন পর প্রিয়াংকা রাণী পাল আমার বড় ছেলে হিমাদ্রীর নিকট ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন যেটা দিতে আমরা অস্বীকৃতি জানাই। সেই সাথে আমার দেড় বছরের নাতীকেও তাদেরকে দিয়ে দিতে বলে। এসব কারণেই মূলত তিনি ক্ষোভ থেকে আমাদের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া লাকী জীবিত থাকতে তার বেতনের টাকা তাদেরকে না দেয়াও একটি অন্যতম কারণ। যতদূর জানি পিতার কথার অবাধ্য হয়ে স্বার্থ হাছিল করতেই প্রিয়াংকা মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের উপর মামলা দায়ের করেছেন। মোগলাবাজার থানাপুলিশ ঘটনার তদন্ত না করেই মামলাটি রুজু করেছেন। যা খুবই দুঃখজনক।
তিনি জানান, শুধু মামলা দিয়ে হয়রাণি নয়, প্রিয়াংকা রাণী পাল আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একের পর এক মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানীকর। আমাদের কোন বক্তব্য না নিয়ে এমনকি সরেজমিন তদন্ত না করে এসব সংবাদ ছাপানো হয়েছে। আমি তাদের এমন ভিত্তিহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে সরেজমিন তদন্ত করে সত্য সংবাদ প্রচার করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

— বিজ্ঞপ্তি ।।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close