ওসমানী নগরের দু’উপির কাজী নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি প্রার্থীদের

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের স্বচ্ছ ও বিধি মোতাবেক নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগ দাবি করেছেন আবেদনকারী প্রার্থীরা। গতকাল রোববার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন। এ সময় তারা বলেন- নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার পদটি খুব স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। এই পদে যোগ্য লোক নিয়োগে কোনো বিকল্প নেই। এ কারনে যথাযথ নিয়ম অনুসরন করে আইনী প্রক্রিয়ায় দুটি ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- তাজপুর ইউপির আবেদনকারী মো. আজমল আলী, মো. রশিদুর রহমান, গোয়ালাবাজার ইউপির আবেদনকারী মো. শায়েক মিয়া ও মোহাম্মদ এমদাদুল হক। লিখিত বক্তব্য রাখেন কাজী পদেও প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান- অবসর জনিত কারনে গত বছর ওসমানীনগর উপজেলার ৫ নং গোয়ালাবাজার ও ৬ নং তাজপুর ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) পদ শূণ্য হয়ে যায়। পরে শূন্য পদে কাজী নিয়োগে উদ্যোগ নেন তাজপুরের তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার মো. ইউনূস আলী। তিনি গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের জন্য ২০১৮ সালের ১লা অক্টোবর এবং তাজপুর ইউনিয়নের জন্য ২০১৯ সালের ২রা জুলাই নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার প্রার্থীদের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন। তার বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক তাজপুর ইউনিয়ন থেকে ১৫ জন ও গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন থেকে ১৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
বিজ্ঞপ্তির পর প্রাপ্ত আবেদন বাছাইয়ের জন্য ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর উপদেষ্টা কমিটির সভা হয়। সভার সিদ্বান্ত মতে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। গত ২১ জুলাই পুলিশের ডিএসবির দপ্তর থেকে আবেদনগুলো ফেরত আসে। গত ৪ঠা আগষ্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সভা আহবান করার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ৫ই আগষ্ট সভা আহবান করা হলেও অসুস্থতা জনিত কারনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (করোনা ভাইরাস আক্রান্ত) উপস্থিত হননি। তারা বলেন- এমপি মোকাব্বির খান গত ২৮ ডিসেম্বর তাজপুর ইউনিয়নে কাজী নিয়োগে মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ নামের এক প্রার্থীর পক্ষে ডিও দিয়েছেন। গোয়ালাবাজারেও তিনি আরেক প্রার্থীর পক্ষে ডিও দিয়েছেন বলে আমরা জেনেছি।
মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন- নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি করে গত ৪ জানুয়ারি জেলা রেজিস্ট্রারকে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি মো. মুজিবুল হক। প্রার্থী মো. আজমল আলীর পক্ষে দেওয়া নোটিশে জানানো হয়- নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে যথাযথ আইনের বিধান অনুসরন করা হয়নি। গোপনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় অনেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে জানেন না। কিংবা কারো দপ্তরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি টানানো হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয় এমপি বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে ডিও দেওয়ার কারনে স্বচ্ছ ও যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী ও নিয়োগে অন্তরায়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি উত্থাপন করে বলেন- ‘সংসদ সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া কমিটির সদস্য হয়েও পছন্দনীয় লোককে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে পারেন না। তারা ডিও লেটার গ্রহন না করার দাবি জানান। তাজপুর ইউনিয়নের আবেদনকারী মো. আবুল কালাম আজাদ শতভাগ সরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্টানে চাকুরী করেন। তিনি তথ্য গোপন করে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার পদে আবেদন করেন। গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের আবেদনকারী মো. আব্দুল মোমিন একজন সক্রিয় জামায়াত শিবির নেতা এবং তিনি এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করতে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তারা।

— বিজ্ঞপ্তি ।।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close