আব্দুল গফুর স্কুল এন্ড কলেজে জাতীয় শোক দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে সিলেট নগরীর আব্দুল গফুর ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামজিক দুরত্ব বজায় রেখে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আব্দুল গফুর ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভার্নিংবডির সভাপতি ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএমএ হাসান জেবুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যার পেছনে শুধু বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সদস্য জড়িত ছিল না, এখানে একটি বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র ছিল। সেদিন যে হত্যাকান্ড হয়েছিলো সে ষড়যন্ত্রের শেকড় ছিলো পাকিস্তানসহ কিছু রাষ্ট্র, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধেী ছিলো। তাদের ‘এজেন্ট’ হিসেবে সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিলো।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনীতি আর তখনকার বৈশ্বিক রাজনীতি এক ছিলো না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত রাষ্ট্র বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৭ দশমিক ৭। এই হার বাংলাদেশকে দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে স্বয়সম্পূর্ণ করে তুলতে এগিয়ে যাচ্ছিল। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে সে সময় শুধু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারকে হত্যা করা হয়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে এই ষড়যন্ত্র করেছিলো আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী কিছু রাষ্ট্র।
তিনি আরো বলেন. বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষটিকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ছিল তিমিরাচ্ছন্ন। দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব গ্রহণ করে স্বাধীনতার শত্রুরা। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে আশ্রয়-প্রশ্রয় পায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের বিচার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে তাদেরও মুখোশ উন্মোচন হবে।
সহকারি শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান, কিন্ডারগার্টেন শাখার ইনচার্জ নাজমা আক্তার, সিনিয়র শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও প্রভাষক নুরে কামাল ভুইয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের গভার্নিংবডির সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য জুনেদা বেগম পারল, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক দাতা সদস্য আব্দুস শহিদ তুমেল, সহকারি শিক্ষক আব্দুর রকিব মানিক, পারভীন বেগম, মমতাজ বেগম, প্রভাষক আছমা বেগম, জেবুন্নেছা খাতুন, সাবরিনা সুলতানা, হুমায়রা আহমদ জুতি, রুহেলা বেগম, সহকারি শিক্ষক মাহবুবা ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, কিন্ডারগার্টেন শাখার সহকারি শিক্ষক নাসরিন আক্তার, পল্লবীকা দত্ত, সুশিলা দেবীসহ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোআ পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক আব্দুর রকিব মানিক।

— বিজ্ঞপ্তি ।।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close