গুজবের শিকার নারীর কান্নার ভিডিও ভাইরাল, এরপর যা ঘটল…

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

‘করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আজ পুরো দেশ লড়ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, আমাদের রোগের সঙ্গে লড়তে হবে, রোগীর সাথে নয়…।’ ফোনে বারবার শোনা যায় এই কথা। তাতে পশ্চিমবঙ্গের পিউ মিত্র জানার অন্তত কোনো লাভ হলো না। করোনা গুজবের শিকার হয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিনরাত্রি কাটাতে হলো তাঁকে। অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ হতে হলো তাঁকে।

কয়েক দিন আগে এই লাইভ ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে অশ্রুসিক্ত নয়নে পিউ মিত্র পুলিশ ও প্রশাসনের সাহায্য চান। তিনি বলেন, আমি করোনা রোগী নই। আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে দয়া করে দুর্ব্যবহার করবেন না। আমাদের সামাজিক বয়কট করবেন না।

ভিডিওটি ভাইরাল হলেও মহিলা কোথায় থাকেন বা তাঁর পরিচয় কী? তা প্রথমে জানা যায়নি। পিউর জন্মভূমি শিলং চম্পকডাঙা দেওয়া ছিল। এতে বিভ্রান্তি আরো বাড়ে। বহু মানুষ মেসেঞ্জারে বা টাইমলাইনে পিউ মিত্রর কাছে তাঁর ঠিকানা জানতে চেয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন ফোন নম্বর। কিন্তু তা জানা সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পারিষদ সদস্য তথা জামুড়িয়ার তৃণমূল নেতা পূর্ণশশী রায় প্রথম এই নারীর হদিস পান। তিনি সন্ধান পেয়েই পুলিশকে খবর দেন। জানা যায়, মহিলার বাড়ি বারাবনি লাগোয়া জামুড়িয়ার শিবপুর পানিহাটি এলাকায়। জামুড়িয়া পুলিশকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়। খবর পেয়ে, পুলিশ পিউ মিত্রের সঙ্গে কথা বলে। পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। 
জানা যায়, জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত শিবপুর পাওয়ার হাউস এলাকার আবাসনে পরিবার নিয়ে বাস করেন পার্থ জানা ও তাঁর স্ত্রী পিউ মিত্র জানা। বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থায় কাজ করেন তাঁর স্বামী। স্ত্রী পিউ মিত্র জানা গৃহবধূ। তাঁদের চার বছরের একটি সন্তান আছে। 

পিউ জানান, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। বলা হয়েছিল অস্ত্রোপচার করাতে হবে। সেখানে তাঁর করোনা পরীক্ষাও করা হয়েছিল। কিন্তু শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দেখে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার সম্ভব নয় বলে রিপোর্ট দেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার সম্ভব নয় বলেই ৫ আগস্ট ফেরেন বাড়িতে। ফেরার পরের দিন থেকেই তাঁকে করোনায় আক্রান্ত বলে এলাকায় গুজব ছড়াতে শুরু করে স্থানীয়দের একাংশ। গুজব এমন জায়গায় পৌঁছায়, পাড়ার দোকানদার তাদের জিনিস দিতে অস্বীকার করেন। দুধওয়ালা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহকারী প্রত্যেকে আসা বন্ধ করে দেন। এমনকি আমাদের বাড়ি থেকে বের হতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

রবিবার জামুড়িয়া থানার পুলিশকর্মীরা ওই পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। মেয়র পারিষদ পূর্ণশশী রায় বলেন, ওই নারীর পরিচয় ও ঠিকানা পেয়েই আমি পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে আতঙ্কমুক্ত করেছে। জামুড়িয়া পুলিশ জানিয়েছে, পিউ ও তাঁর পরিবার এখন আতঙ্কমুক্ত। পাড়া-প্রতিবেশীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যেন গুজব না ছড়ানো হয়।

সূত্র :— সংবাদ প্রতিদিন

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close