সিলেটে ফের তৎপর জঙ্গি গোষ্ঠি,নগরীতে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ল্যাপটপ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক::

দেশে জঙ্গি তৎপরতার জন্য বারবার আলোচনায় এসেছে সিলেটের নাম। জঙ্গিদের হামলায় একাধিকবার কেঁপে ওঠেছে এই অঞ্চল। দেশের শীর্ষ জঙ্গিরাও গ্রেপ্তার হয়েছে সিলেট থেকে। এছাড়া এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জঙ্গিরা ঘাঁটি গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সময়।

বেশকিছুদিন এই গোষ্ঠির দৃশমান কোনো তৎরতা না থাকলেও সিলেটে ফের তৎপর হয়ে ওঠেছে উগ্রবাদী জঙ্গিরা। গত কয়েকদিনে সিলেট নগর থেকে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য সন্দেহে ৫ জনক আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে নাইমুজ্জামান নামের একজন নব্য জেএমবির সিলেট অঞ্চলের কমান্ডার বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের দাবি, আটক জঙ্গিরা নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজারে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। নাইমুজ্জামান ও সাদী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সায়েম সিলেটের মদন মোহন কলেজের ছাত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১১ই আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৫/১০নং বাসার মুক্তিযোদ্ধা মইনুল আহমদের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এরআগে গত রোববার রাত থেকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ নব্য জেএমবির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

এসময় বাসা থেকে বোমা তৈরির এবং কিছু কম্পিউটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। উদ্ধারকৃত কম্পিউটারে বোমা তৈরির বেশকিছু ভিডিও ছিলো।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান জানান, জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ৪৫/১০ নম্বর বাসার মুক্তিযোদ্ধা মইনুল আহমদের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। এসময় বাসা থেকে বোমা তৈরির এবং কিছু কম্পিউটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। উদ্ধারকৃত কম্পিউটারে বোমা তৈরির বেশকিছু ভিডিও ছিলো।

এদিকে টিলাগড়ের শাপলাবাগ ৪০/এ শাহ ভিলায় অভিযান চালায় পুলিশ। শাহ ভিলার মালিক শাহ মো. সামদ আলী জানান, প্রায় ২ মাস আগে জঙ্গি নাইম ও সায়েম কম্পিউটারের ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য বাসা ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে কথা বলে। পরে চারতলা বাসার এক তলায় একটি ইউনিট ভাড়া নেয় তারা। এসময় তারা ১মাসের অগ্রিম ভাড়া দিয়ে কয়েকদিন পর চুক্তিপত্র করবে বলে চলে যায়। কোন যোগাযোগ না করে মাসখানেক পর আরও একমাসের ভাড়া দিয়ে যায় তারা।

পুলিশ জানায় মূলত তারা টিলাগড়ে জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টার খুলতে চাইছিলো। যেখান থেকে তারা সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে হামলা করার পরিকল্পনা করতে চেয়েছিল।

দিনভর অভিযানে আগে নব্য জেএমবি’র সিলেট সেক্টর কমান্ডারসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহ আলাইহির মাজারে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। আটকৃতরা হলেন নাইমুজ্জামান, মির্জা সায়েম, জুয়েল, সানাউল ইসলাম সাদি ও রুবেল।

উল্লেখ্য যে, গত রবিবার (৯ আগস্ট) থেকে সিলেট নগরী এবং আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় জঙ্গি ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর মিরাবাজার উদ্দীপন-৫১ নম্বর বাসা থেকে গেল রবিবার রাতে নাইমুজ্জামান নাইমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নব্য জেএমবির ‘সিলেট আঞ্চলিক কমান্ডার’ বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। নাইমের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেফতার করা হয় আরো চারজনকে। তন্মধ্যে জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে সানাউল ইসলাম সাদীকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। এছাড়া টুকেরবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। নাইম ও সাদী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তারা কোন বিভাগের শিক্ষার্থী, তা জানা যায়নি। গ্রেফতারকৃত বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন কলেজ শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এই পাঁচ ‘জঙ্গি’ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

এই পাঁচজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সিলেট নগরীতে অভিযানে চালিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব।সর্বশেষ এই দুই স্থানে অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত ৫ জঙ্গিকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে পুলিশ।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close