‘সীমার মাঝে অসীম তুমি…’ আজ কবিগুরুর ৭৯তম প্রয়াণ দিবস

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

২২ শ্রাবণ; বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস। মহাকালের চেনাপথ ধরে প্রতিবছর বাইশে শ্রাবণ আসে। এই বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবী ভক্তদের কাছে একটি শূন্য দিন। কারণ এদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর দিন।

মহাকালের চেনা পথ ধরে প্রতিবছর বাইশে শ্রাবণ আসে।  বিশ্বব্যাপী রবিভক্তদের কাছে বাইশে শ্রাবণ দিনটি শোকের, শূন্যতার। রবীন্দ্র কাব্যসাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন, সেই পরমার্থের সঙ্গে তিনি লীন হয়েছিলেন এদিন।

রবীন্দ্রকাব্যে মৃত্যু এসেছে বিভিন্নভাবে। জীবদ্দশায় মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন বারবার। মৃত্যুবন্ধনা করেছেন তিনি এভাবে- ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। মেঘবরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট! রক্ত কমলকর, রক্ত-অধরপুট, তাপ বিমোচন করুণ কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান ॥’

কবিগুরুর তিরোধানের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে প্রদীপ্ত নক্ষত্রটি খসে পড়ে। তবে দীপ্ত্য প্রজ্বলমান তার কর্ম। অনির্বাণ শিখা হয়ে তার কর্ম জ্বলছে বাঙালির সংগ্রামে-আন্দোলনে, সাংস্কৃতিক যাপিত জীবনে।

১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নিয়েছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু জমিদারীর ঐতিহ্যকে পার করে সৃজনের দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় তিনি পত্তন ঘটান নতুন এক বসতি শান্তিনিকেতনের। মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু ও জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোল আলো করে পৃথিবীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আসেন ১২৬৮ বঙ্গাব্দে। সারা জীবনই তার কামনা ছিল- ‘যা পেয়েছি প্রথম দিনে, তাই যেন পাই শেষে/দু’হাত দিয়ে বিশ্বরে ছুঁই শিশুর মতো হেসে। ’

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের ঊর্ধ্ব চূড়ায়। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ রচনা করে তিনি জয় করেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার। যার অর্থে বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দিতে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি ব্যাংক, গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন। রাজপথে নেমে আসেন তিনি বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ত্যাগ করেন ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি। এভাবে বার বার সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতার ঘোষণা দিয়েছেন সমাজসচেতন রবীন্দ্রনাথ।

তিনি পৃথিবীর একমাত্র গীতিকবি- যার রচিত ভিন্ন দুইটি সঙ্গীত ভিন্ন দুইটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গীত হয়। তার রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশে, ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত৷

বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে জাতীয়ভাবে উন্মুক্তস্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সংগঠন ভার্চ্যুয়ালি রবীন্দ্র প্রয়াণবার্ষিকী পালন করবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close