শ্রমিকনেতা মো: ইকবাল হোসেন রিপন হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

গত ১০/০৭/২০২০খ্রি: রাত অনুমান ২১:৪৫ ঘটিকায় দুস্কৃতিকারীদের বর্বরোচিত হামলায় খুন হন সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন রিপন। এ সময় আহত হন তাহারই সহকর্মী বাবলা আহমেদ তালুকদার। প্রিয় শ্রমিক নেতার মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শ্রমিক সংগঠনের প্রতিটি সদস্য। সহমর্মিতা জানায় এলাকার সাধারণ জনগন। শ্রমিক নেতা হত্যার বিচারের দাবীতে ও প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ সহ বিভিন্ন প্রকার লাগাতার কর্মসূচী শুরু করে ট্যাংক লরি শ্রমিক সংগঠন। 
উল্লেখ্য যে, ১০/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ রাত অনুমান ০৯:৪৫ ঘটিকার সময় দক্ষিণ সুরমা থানাধীন সাধুর বাজার জারিন ট্রের্ডাস দোকান বন্ধ করিয়া শ্রমিক নেতা মো: ইকবাল হোসেন রিপন ও সাংগঠনিক সহকর্মী বাবলা আহমেদ তালুকদার মোটরসাইকেল যোগে বাড়ী যাচ্ছিলেন। রাত্রী অনুমান ১০:০৫ ঘটিকায় দুস্কৃতিকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অর্তকিতে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায় মো: ইকবাল হোসেন রিপন এর উপর। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মম ভাবে খুন হন মো: ইকবাল হোসেন রিপন। গুরুতর আহত হন তার সাংগঠনিক সহকর্মী বাবলা আহমেদ তালুকদার। এই ঘটনায় মো: ইকবাল হোসেন এর স্ত্রী ফারজানা আক্তার তমা বাদী হয়ে মো: ইজাজুল হক সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন সহ এজাহার দায়ের করিলে দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং- ০৯ তাং- ১১/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ ধারা- ১৪৩/৩০২/৩২৬/৩০৭/১১৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। 
জনাব মোহা: সোহেল রেজা পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ), এসএমপি, সিলেট এর নেতৃত্বে ঘটনার পর পর হত্যাকারীদের গ্রেফতার অভিযান নামে পুলিশ। ১১/০৭/২০২০খ্রি: তারিখে অত্র মামলার ১০নং এজাহারনামীয় আসামী নোমান আহমদ (৩৫) পিতা- মৃত মাসুদ আহমদ কবির, সাং- বরইকান্দি, ১নং রোড, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট ও একই সাকিনের সন্দিগ্ধ আসামী মো: আতাউর রহমান সাদ্দাম (৩০) পিতা- মৃত বশির মিয়া, সাং- বরইকান্দি ১নং রোড, কাজিরখলা, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট’দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। চলমান অভিযানে ১৪/০৭/২০২০খ্রি: তারিখে ঘটনায় জড়িত দুস্কৃতিকারীদের বহনকারী সিএনজি চালক সন্দিগ্ধ আসামী মো: তারেক আহমদ (২১), পিতা-মো: আফজল মিয়া, মাতা-মোছা: ডলি বেগম, সাং-ধলাইপাড়া, থানা-কমলগঞ্জ, জেলা-মৌলভীবাজার, এ/পি সুনামপুর, বরইকান্দি ১নং রোড, বজলু মিয়ার বাড়ী, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট’কে গ্রেফতার করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে সে বর্ণিত মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও ১৫/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২য় আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঘটনায় দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌ: কা: বি: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। 
১৬/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দিগ্ধ হিসেবে ওমর খইয়াম সাওগন (২৫) পিতা- আব্দুল হাই, মাতা- নাজমা সুলতানা, সাং- ঝালোপাড়া (স্কুল গলি), থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট’কে  গ্রেফতার করা হয়। 
১৭/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ পৃথক পৃথক অভিযানে এজাহারনামীয় আসামী হাবিবুর রহমান মিন্টু (৩২) পিতা- মৃত বশির মিয়া, সাং- কাজিরখলা, বরইকান্দি, ১নং রোড, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট এবং এজাহারনামীয় আসামী মো: ইসমাইল আহমদ (৩১) পিতা- মৃত ফরিদ মিয়া, সাং- কাজিরখলা, বরইকান্দি ১নং রোড, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট’কে গ্রেফতার করা হয়। হাবিবুর রহমান মিন্টু এজাহারে ৫নং এবং মো: ইসমাইল আহমদ এজাহারে ৯নং আসামী। আসামী মো: ইসমাইল আহমদ আলোচিত মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামী মো: ইজাজুল হকের আপন বড় ভাই হয়। ১৮/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। 
১৯/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ সন্দিগ্ধ হিসেবে মনির আহমদ @ ইমন (৩৫), পিতা-মৃত ফারুক মিয়া, সাং-গাঙ্গু, বরইকান্দি ১নং রোড, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট ও মো: আয়নুল হক (৩৫) পিতা- সামছুল হক, সাং- ডরমন্ডল, থানা- নাসিরনগর, জেলা- বি-বাড়ীয়া, বর্তমানে- কাজিরখলা, (আফজল মিয়ার কলোনী), বরইকান্দি ১নং রোড, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট’দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। মনির আহমদ @ ইমন এজাহারনামীয় ২নং আসামী মো: রেজোয়ান হোসেন রিমু এর আপন বড় ভাই। 
২০/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ এজাহারনামীয় ০৬নং আসামী সেবুল হাসান (৩৮) পিতা- লিলু মিয়া, সাং- গাঙ্গু (স্কুলের পিছনের বাড়ী), বরইকান্দি ১নং রোড, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট’কে ঢাকা পালিয়ে যাওয়ার সময় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন হবিগঞ্জ রোডস্থ হানিফ বাস কাউন্টারের সামনে হইতে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশি অভিযানের  একপর্যায়ে মামলার গুরুত্বপূর্ণ এজাহারনামীয় ১নং আসামী মো: ইজাজুল হক (২৫) পিতা- মৃত ফরিদ মিয়া, সাং- কাজিরখলা, বরইকান্দি ১নং রোড, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট ও এজাহারনামীয় ২নং আসামী মোঃ রেজোয়ান হোসেন রিমু (৩০) পিতা- মৃত ফারুক মিয়া, সাং- গাঙ্গু, বরইকান্দি ১নং রোড, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট’দ্বয় গত ২০/০৭/২০২০খ্রি: তারিখ বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-০২, সিলেট এ আত্মসমর্পন করে। তাৎক্ষণিক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামীদ্বয়কে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নিমিত্তে বিজ্ঞ আদালতে ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করিলে, বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ০২(দুই) দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড চলাকালীন জিজ্ঞাসাবাদে আসামী মো: ইজাজুল হক (২৫) ও মোঃ রেজোয়ান হোসেন রিমু (৩০) ঘটনায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করিলে বিজ্ঞ আদালত আসামীদ্বয়ের ফৌ: কা: বি: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করত: জেল হাজতে প্রেরণ করেন। 
লাগাতার পুলিশি অভিযানে শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন রিপন হত্যার জড়িত আসামীদের গ্রেফতার এবং আসামীদের সেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান অপর দিকে পুলিশি অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামী মুহিবুর রহমান মুন্না (৩০) পিতা- মৃত আব্দুল করিম মনজ্জির, সাং- গাঙ্গু, বরইকান্দি ১নং রোড, থানা- দক্ষিণ সুরমা, জেলা- সিলেট এলাকা ছেড়ে গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে জালালাবাদ থানাধীন দুর্গম হাওড়ি জনপদ হাঁটখোলা ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামে আত্মগোপন করে। একদিকে কোরবানী ঈদের কর্মব্যস্ততা অপরদিকে ইকবাল হোসেন রিপন হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের প্রতিশ্রæতি ও দ্রæত বিচারের মুখোমুখি করে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জনাব গোলাম কিবরিয়া বিপিএম,পুলিশ কমিশনার, এসএমপি, সিলেট মহোদয়ের সার্বিক তত্বাবধানে জনাব মোহা: সোহেল রেজা পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ), এসএমপি, সিলেট এর নেতৃত্বে দক্ষিণ সুরমা থানা ও মোগলাবাজার থানার একটি চৌকস দল  অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে মুহিবুর রহমান মুন্না’কে। তাহাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য সহ মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত তথা চাপাতি, দা, ছুরির সন্ধান জানায়। আসামীকে নিয়া অভিযান কালে তাহার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে মামলার হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, দা, ছুরি উদ্ধার করিয়া বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়। এ পর্যন্ত মো: ইকবাল হোসেন রিপন হত্যায় ১২(বার) জন আসামী গ্রেফতার হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখতার হোসেন অফিসার ইনচার্জ, দক্ষিণ সুরমা থানা, এসএমপি, সিলেট।

— বিজ্ঞপ্তি ।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close