সিলেটে এয়ারপোর্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বরাবরে এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন ও এসআই মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ি জাকির আহমদ চৌধুরী। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অভিযোগটি দাখিল করা হয়।
জাকির আহমদ চৌধুরী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্যাংক ও হোটেল ব্যবসায় জড়িত। বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের সাথে থেকে সমাজের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অন্যায়, অবিচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। তাছাড়া সরকারকে নিয়মিত লাখ টাকার উপরে ট্যাক্স প্রদান করেন। তার সম্মানহানি ঘটানো ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে বড়শালা গ্রামের ফয়জুল হক বতুশা ও তার বাহিনী হামলা ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করে মামলাসহ বিভিন্ন ধরণের শারিরীক-মানসিকভাবে আঘাত করছে। বতুশা বাহিনী বড়শালা এলাকার বাসিন্দাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মসজিদের ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ, জায়গা দখল, চাঁদাবাজি,জাল জালিয়াতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে আসছে। এ সকল বিষয়ে বড়শালা এলাকার বাসিন্দারা বতুশা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সিলেটের জেলা প্রশাসক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিমানবন্দর থানা, র‌্যাব-৯ সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে প্রায় ৫ টি জিডি ও ২০টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। এরপর থেকে বতুশা তার বাহিনীর মাধ্যমে ও বিভিন্ন কৌশলে নানা ধরণের মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ও মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজিয়ে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অপচেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন। তাছাড়া বতুশার সাথে পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সু-সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি দরখাস্তে আরো উল্লেখ করেন, বতুশার ছেলে ইব্রাহিম খান রবি ওরফে আব্দুল্লাহ(৩০) তার ব্যবহৃত ফেইসবুক আইডি ” রবি খান” বর্তমান আইডি রবিন থেকে গত ০৮/১১/২০১৯ ইং তারিখে ও তৎপরবর্তী বিভিন্ন সময়ে জাকির ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছবি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ নানা ধরণের হুমকী প্রদান করে লেখা পোস্ট করেন। এ লেখাটি স্ক্রীন শর্ট ও ইউআরএল নাম্বার সংগ্রহ করে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত (বাংলাদেশ) ঢাকায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আইটি ফরেনসিক মামলা নং ১-০৪৬৮-২০২০ইং দাখিল করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য এসএমপি’র বিমানবন্দর থানায় প্রেরণ করলে তদন্তের দায়িত্বপান এসআই মোফাজ্জ্বল হোসেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্তের পূর্বেই যোগাযোগ করেন আসামীর পিতা ফয়জুল হক বতুশার সঙ্গে। আর বতুশা তখন থেকেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য গোপন চুক্তি করেন। এর অংশ হিসেবে বতুশা মামলার সাক্ষীদের সাথে যোগাযোগ করে নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, থানা থেকে এসআই মোফাজ্জ্বল ফোন করবেন। তোমরা ঘটনা মিথ্যা বলে দিও। এরপরে গত ০৮ জুলাই এসআই মোফাজ্জ্বল বতুশার কথা মতো ফোন দিয়ে সাক্ষীদেরকে বলেন ‘আপনারা কী কোন মামলায় সাক্ষী আছেন’ তখন সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে সাক্ষীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে জাকির বিমানবন্দর থানায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কথা মতো শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় দেখা করতে থানায় গেলে এসআই মোফাজ্জ্বল থানার বাইরে বাদাম-বাগিচা এলাকায় ডাকেন। তখন জাকির তার মামলার ৩ সাক্ষী সহ দেখা করেন। আর সাক্ষীরা বিষয়টি বিস্তারিত তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বলেন। কিন্তু তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক সব কিছু লিখে শেষ করা হয়েছে। এখন আর সাক্ষ্য নেয়া যাবে না। আর ওসি স্যার কাগজে দস্তখত দিয়ে দিয়েছেন। এসব বদলানো যাবে না। এগুলো ঢাকায় খুব শীঘ্রই পাঠানো হবে বলে চলে যান। এ বিষয়ে জাকির এসএমপির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে (১২ জুলাই) মৌখিকভাবে অবহিত করেন। ওইদিন দুপুর ১২টা ৪২ মিনিটে এসআই মোফাজ্জল হোসেন ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকে ফোন করে জাকিরকে বলেন ‘উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছেন’ বলেন, বলেন, আরো বলেন’‘ বলেই ফোন রেখে দেন।
জাকির তার দরখাস্তের শেষে উল্লেখ করেন, এসএমপি’র বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে বতুশা ও তার বাহিনীর রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ফলে বতুশা এলাকায় দাপটের সাথে বলে বেড়াচ্ছেন ওসি শাহদাৎ থাকাবস্থায় কেউ তার কিছুই করতে পারবে না। উল্টো বতুশা ওসিকে দিয়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করবে। আর বতুশা ও তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানায় সত্য কোন অভিযোগ গেলেও, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এসকল কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। তাছাড়া তার সন্দেহ হচ্ছে বতুশার সাথে যোগাযোগি মূলে তার মামলা সঠিক তদন্ত না করে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাই তার সাইবার ট্রাইব্যুনালের মামলাটি অন্য কোন ঊর্ধ্বতন চৌকশ কর্মকর্তা বা গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে ও গোপনে সঠিক তদন্ত করার দাবি জানান।

— প্র্রেস বিজ্ঞপ্তি ।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close