বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

আজ ১০ জুলাই ২০২০ শুক্রবার  বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে বিকাল ৪টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহবায়ক মোখলেসুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহবায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়,সদস্য এডভোকেট হুমায়ুন রশিদ সোয়েব, সংগঠনের সদস্য জিতু সেন,আমেনা বেগম,অজিত রায় প্রমুখ।এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ওসমানি মেডিকেল কলেজের  চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (আউটসোর্সিং) শহিদুল ইসলাম রুবেল।সমাবেশে বক্তারা বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের সমস্যা-সংকট এবং দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলকে বেসরকারি খাতে অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের অংশ হিসাবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় সমস্ত পাটকল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত। এতে শ্রমিকদের জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা মোটেও ভাবিত নয়। ফলে পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে আমরা লড়ছি। সরকারের এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তকে রুখে দিতে হবে।অন্যদিকে করোনাকালীন সময়ে সবেতন চা বাগান বন্ধ করার দাবি উঠলেও তাতে কর্নপাত করেনি বাগান মালিকরা।এই দাবিকে উপেক্ষা করে চা বাগান চালু করলেও কোন ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয়নি।চা বাগানে চুক্তি হয়নি গত প্রায় ২ বছরে। বক্তারা নতুন চুক্তি সম্পাদন,৪০০ টাকা দৈনিক মজুরি প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি জানান। তাছাড়া বক্তারা করোনা মহামারীর এই সংকটময় মুহূর্তে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজের আউটসোর্সিং এ নিয়োগপ্রাপ্ত ৮২ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে ছাটাই করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। দিনের পর দিন করোনায় আক্রান্তের ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসার জন্যে পর্যাপ্ত ডাক্তারের অভাব যেমন রয়েছে, আরও ব্যাপকভাবে অভাব রয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।তাই করোনা মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মাস্টার রোলে পর্যাপ্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার দাবিও জানান বক্তারা।নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একদিকে দেশে করোনা মহামারী মোকাবিলায় সরকার বরাবরই অবহেলা করে আসছে। মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। অন্যদিকে জীবনের প্রধান অবলম্বন জীবিকা থেকে শ্রমিকদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। গার্মেন্টস, পাটকল, চা-বাগান,হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক ও কর্মচারীকে বেতন ছাড়াই ছাঁটাই করা হচ্ছে। বেতন দিলেও তা কর্তন করা হচ্ছে।  জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে নিয়োজিত স্বাস্থ্যসেবীদের জন্যে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে না।এমতাবস্থায় সারাদেশে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামিল হয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের শ্রমিকদের স্বার্থের লড়াইকে বেগবান করার আহবান জানান।
নেতৃবৃন্দ সমাবেশে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরেন:
১। পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আধুনিকায়ন কর। পুঁজিপতিদের হাতে পাটশিল্প তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বন্ধ কর।

 ২। লে-অফ, শ্রমিক ছাঁটাই, বেতন কর্তন করা চলবে না।

৩। শিল্পাঞ্চল-শ্রমিক অঞ্চলগুলোতে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন কর এবং আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দাও। 

 ৪।চা শ্রমিকদের নতুন চুক্তি সম্পাদন করে ৪০০ টাকা মজুরি ও ঝুঁকি ভাতা চালু কর।

৫।ওসমানী মেডিকেল কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছাটাইয়ের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে মাস্টার রোলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দাও। 

— প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close