খাশোগির লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে চুলায় পোড়ানো হয়েছে?

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

তুরস্কের আদালতে সৌদি দূতাবাসকর্মীর সাক্ষ্য থেকে আলোচিত সাংবাদিক জামাল খাশোগির মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে পুড়িয়ে ফেলার ধারণাই জোরালো হয়েছে। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ২০১৮ সালের অক্টোবরে খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) তুর্কি আদালতে খাশোগি হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সে সময় উপস্থিত সৌদি দূতাবাসকর্মী জাকি দামির বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে ঢোকার পরই তন্দুর চুলা প্রায় এক ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

খাশোগি হত্যার বিচারের প্রথম দিন সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কনস্যুলেটের টেকনিশিয়ান জাকি দামির আরো বলেন, ‘খাশোগি তাঁর বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দূতাবাসে ঢোকার পর তাঁকে আবাসিক ভবনে ডাকা হয়। সেখানে পাঁচ–ছয়জন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরা আমাকে তন্দুরের ওভেন জ্বালাতে বলেন। সেখানে পরিবেশ থমথমে ছিল।’

তুর্কি কর্মকর্তারা এর আগেও বলেছেন, পুলিশের ধারণা, হত্যাকারীরা খাশোগির মরদেহ পুড়িয়ে অথবা টুকরো করে কেটে উধাও করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।

তুর্কি আদালতে জাকি দামির তাঁর সাক্ষ্যে আরো বলেছেন, ওই দিন তিনি দূতাবাসের বাগানে মাংস কাটার বেশ কয়েকটি বোর্ড দেখেছিলেন। কাবাবজাতীয় কিছু পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। চুলার চারপাশের মার্বেলের স্ল্যাবগুলোর রং বদলে গিয়েছিল। দেখে মনে হচ্ছিল,সেগুলো কোনো রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।

দূতাবাসের গাড়িচালক ও অন্যান্য সাক্ষী বলেন, স্থানীয় এক রেস্তোরাঁ থেকে তাঁদের কাবাবের কাঁচা মাংস কিনে আনতে বলা হয়েছিল।

জাকি দামির বলেন, কালো কাচের জানালার একটি গাড়ি ঢোকার পর তিনি গ্যারেজের দরজা খোলার কাজে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে দ্রুত বাগান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের ভুলে নিহত হন ওই সাংবাদিক। তবে তাঁর মৃতদেহের কোনো সন্ধান দেয়নি তারা।

খাশোগিকে হত্যার পেছনে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজপরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে সৌদি আরব।

সূত্র ::— পার্সটুডে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close