‘কলঙ্কিনী রাধা’ গানটি সিলেটের শাহ আবদুল করিমের নয়

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘বুলবুল’ সিনেমায় ‘কলঙ্কিনী রাধা’ গানটির ব্যবহার নিয়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসিসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে গানটি বাংলাদেশে সিলেটের কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের গাওয়া বলে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় গানটি শাহ আবদুল করিমের লেখা নয়, এমনটি এই গানটি তাকে গাইতেও শোনেন নি কেউ।শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূর জালাল বলেন, বাবার কণ্ঠে এই গানটা আমি কোনোদিন শুনেছি বলে মনে পড়ে না। বাবার অগ্রন্থিত যে গানগুলো আছে সেগুলো আমি এক সাথে করার কাজ করছি। সেখানেও কোথাও এই গানটি আমি পাইনি। বাবা এই গানটি কোন অনুষ্ঠানে গেয়েছেন বলেও আমার জানা নাই। সিলেট অঞ্চলের কোনো বাউল শিল্পীও এই গানটি নিজের লেখা দাবি করে গেয়েছেন বলে আমার জানা নাই। সিলেট অঞ্চলের গানের সাথেই তো আমার ৫০ বছর কেটেছে। কিন্তু আমি গানটি সিলেটের বাউল শিল্পীদের কাছে কখনোই শুনিনি। গানটি শাহ আবদুল করিমের নয়। কেউ কেউ বলছেন রাধারমণের গান। এটি রাধারমণের গান বলেও আমার জানা নাই।

গবেষক সাইমন জাকারিয়া বলেন, এই গানটির কথা ও সুর শুনলে বোঝা যায়, এটা ভারতের বাঁকুড়া অঞ্চলের হতে পারে। এটি শাহ আবদুল করিমের গান যে নয়, সেটা তো তার ছেলে নিশ্চিত করেছেন। গানটা আমি ভারতীয় বাংলা সিনেমায় আগেও শুনেছি বলে মনে হচ্ছে। সিনেমার নামটা এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।

গবেষক সুমন কুমার দাশ বলেন, কলঙ্কিনী রাধা গানটি শাহ আবদুল করিম কখনোই করেন নি। সম্ভবত এই গানটি ভারতের আসাম অঞ্চলের লোকগান হতে পারে। গানের সুর শুনলে আমার কাছে তাই মনে হয়। গানটি কার লেখা ও সুর করা, সেটা আমার জানা নাই। সিলেট অঞ্চল যেহেতু আসামের কাছাকাছি। তাই কেউ কেউ মনে করেন এই গানটি শাহ আবদুল করিম গেয়েছেন কিংবা তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু সত্য হলো- আবদুল করিম এই গানটি কখনোই করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘বুলবুল’ নামের সিনেমায় ব্যবহৃত প্রাচীন বাংলা লোকগীতি ‘কলঙ্কিনী রাধা’ গানটিকে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা নিতে পারেন নি। তারা নেটফ্লিক্স বয়কট করারও ডাক দিয়েছেন। পাশাপাশি অনলাইনে তাদের তোপের মুখে পড়েছেন ছবিটির প্রযোজক আনুশকা শর্মা।

ওই গানে হিন্দুদের ভগবান কৃষ্ণকে ‘কানু হারামজাদা’ এবং তার লীলা সঙ্গিনী রাধাকে ‘কলঙ্কিনী’ বলে বর্ণনার বিষয়টি বিশেষত উত্তর ভারতের হিন্দুদের অনেকে নিতে পারেননি। তাদের আক্রমণ ও সমালোচনার মুখে নেটফ্লিক্স ওই মুভির হিন্দি সাবটাইটেলেও কৃষ্ণের বর্ণনায় ‘হারামজাদা’ শব্দটি পাল্টে ‘নটখট’ (দুষ্টু) শব্দটি ব্যবহার করেছে। তবে আনুশকা শর্মা নিজে বা মুভির নির্মাতা সংস্থা এই বিতর্ক নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি।

অনেকে ‘হারামজাদা’ ও ‘কলঙ্কিনী’ শব্দদুটির জন্য ইংরেজি ও হিন্দিতে বুলবুলে যে ধরনের সাবটাইটেল ব্যবহার করেছিল তা আপত্তিকর ও ‘হিন্দুফোবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। যেমন, ইংরেজি সাব-টাইটেলে কলঙ্কিনীর জায়গায় ‘শেমলেস হাসি’ (লজ্জাহীনা নারী) ও হারামজাদার জায়গায় ‘বাস্টার্ড’ (বেজন্মা) লেখা হয়েছিল। হিন্দিতে ব্যবহার করা হয়েছিল যথাক্রমে বেশরম ও হারামজাদা শব্দ দুটো। পরে অবশ্য হারামজাদা পাল্টে লেখা হয়েছে নটখট শব্দটি।

সূত্র::— দেশ রুপান্তর ।।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close