সিলেটে সীমিত পরিসরে শাহজালাল (রহ.) মাজারে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক::

লালে লাল , বাবা শাহজালাল। বাবা কি জয়, ৩৬০ আউলিয়া কি জয়। ওলি আউলিয়া কি জয়- এভাবে ভক্তদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাজার প্রাঙ্গণ। আজ শুক্রবার বাদ জোহর মোনাজাতের মধ্য দিয়ে লাকড়ি তোড়া উৎসবের সূচনা হয়। প্রায় ৭০০ বছর আগে ওরসের তিন সপ্তাহ আগে এ উৎসব চালু হয়। বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রতিবছর শাহজালাল (র.) মাজারে ওরসের আগে এ উৎসব পালন করা হয়। প্রতিবছরই এতে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী অংশ নেন। মাজার রথেকে দীর্ঘ মিছিল নিয়ে যাওয়া হয় লাক্কাতুড়া বাগানে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষিতে এবার লোকসমাগম ছাড়াই কেবল রেওয়াজ রক্ষার জন্য এ উৎসব পালন করা হলো।

অন্যান্য বছর ভক্তদের উপস্থিতি বাড়াতে মাজার কমিটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রচারণা চালানো হলেও এবার কোনো প্রচারণা চালানো হয়নি। তবে কিছুসংখ্যক ভক্ত নিজ উদ্যোগেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লাকড়ি নিয়ে মাজারে হাজির হন।

এ ব্যাপারে দরগাহে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, ৭০০ বছর ধরে লাকড়ি তোড়া উৎসব পালন করছেন তার ভক্ত ও আশেকানরা। এবার এই রেওয়াজ ধরে রাখার জন্য আমরা খুবই সীমিত আকারে উৎসবটি পালন করেছি। আগে কোনো প্রচারণা চালাইনি। কাউকে দাওয়াত দেইনি। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ মিলে মিছিল করে লাক্কাতুড়ায় লাকড়ি সংগ্রহে যান। এবার তা করা হয়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে একটি অটোরিকশায় করে কিছু একজন মাওলানাসহ তিনজন মানুষ দিয়ে কিছু শিরনি লাক্কাতুরায় পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা সেখানে একটি মিলাদ করে শিরনি বিতরণ করে এসেছেন। লোকসমাগম এড়াতে আমি নিজেও সেখানে যাইনি। তবে কিছু মানুষ নিজেদের উদ্যোগেই লাকড়ি নিয়ে মাজারে হাজির হচ্ছেন। তাদেরকেও আমরা নিরুৎসাহিত করছি।জানা গেছে, হযরত শাহজালাল জীবিত থাকা অবস্থায় টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। তিনি মারা যাওয়ার পর ভক্ত-অনুরাগীরা সেই প্রথা ধরে রেখেছেন। সংগৃহিত লাকড়ি দিয়ে ওরসের সময় শিরণি রান্না করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close