দুই দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি::
উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢল, গত মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা বর্ষণে মৌলভীবাজারেরে কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানিও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানঝুঁঁকিপূর্ণ থাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার দিনে থেমে থেমে কয়েক দফা ভারী বর্ষণ হলেও এ রাতে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কমলগঞ্জে বুধবার রাত থেকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় ধলাই নদে পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে।
একই সাথে লাঘাটাছড়াসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের ত্রিপুরার বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ত্রিপুরা ও আসামে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টির পানি আবার সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদী দিয়ে প্রবাহিত হবে। ফলে ধলাই নদীতে পানি আরও বৃৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়ন থেকে রহিমপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত ধলাই নদীর ৫৫ কি.মি. এলাকার মাঝে বেশ কিছু স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। নদীতে আরও পানি বৃদ্ধি পেলে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে কমলগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের অদূূরে ধলাই রেল সেতু এলাকায় পানি বিপদ সীমার ১৯ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন কমলগঞ্জের নদ-নদী ও ছড়ার দিকে সার্বিক নজরদারি রাখছে। তবে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close