ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি ট্র্যাজেডি: সিলেটে কুখ্যাত মানবপাচারকারী রফিক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক::

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা ছয়টি মানব পাচার মামলার অন্যতম আসামি র‌ফিকুল ইসলাম‌কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)।সে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কাঠালীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে গত বছরের ৯ই মে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এ নৌকাডুবি ট্র্যাজেডিতে শোকের ছায়া নামে পুরো দেশজুড়ে। নিহত বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সিলেটী হওয়ায় শোকের মাতম হয় সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়।

ঘটনার এক বছর পর গতকাল সোমবার (১লা জুন) রফিকুল ইসলামকে বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা ওবাইন রাখাইন।

এর আগে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মানব পাচার মামলায় রফিকুলের মেয়ে পিংকি অনন্যা প্রিয়াকেও গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

গত বছরের ৯ মে রাতে লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন এবং ১৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে তিউনিশিয়া কোস্টগার্ড।

এ ঘটনায় নিহত রেদওয়ানুল ইসলাম খোকনের ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু বিশ্বনাথ থানায় রফিকুল, তার ছেলে পারভেজ আহমদ, মেয়ে পিংকি ও আরেক মানব পাচারকারী এনামুল হক এনামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

এর পর দেশের আরও পাঁচটি থানায় রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের কিছু মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব-৯ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা ওবাইন রাখাইনের দেওয়া তথ্য মতে- রফিকের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে- সিলেটের বিশ্বনাথ থানা এলাকা থেকে জালালাবাদ থানার মামালা নম্বর- ১৯/২৪০, তারিখঃ ৩১/১০/২০১৯, ২০১২ সালের মানবপাচারপ্রতিরোধ ও দমন আইনের ০৭/০৮/১০ ধারা, বিশ্বনাথ থানার মামলা নম্বর- ৮/৯১, তারিখঃ ১৬ /০৫/২০১৯, ধারাঃ ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ০৭/০৮/১০, বিশ্বনাথ থানার মামলা নম্বর- ৫/২৮, তারিখঃ ০৮ /০২/২০২০, ধারাঃ ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ০৭/০৮/১০, এসএমপি দক্ষিন সুরমা থানার মামলা নম্বর- ১২/১২, তারিখঃ ১৬ /০১/২০২০, ধারাঃ ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ০৭/০৮/১০, বিশ্বনাথ থানার মামলা নম্বর- ১/২৫৩, তারিখঃ ০২ /১২/২০১৯, ধারাঃ ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমনআইনের ০৭/০৮/১০।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close