জৈন্তাপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড-১৯

নতুন আক্রান্ত ৩, নমুনা সংগ্রহ ৬১, মোট আক্রান্ত-১৮, চিকিৎসাধীন-১৬, মৃত্যু-১, সুস্থ-১ ::—

জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি-

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষ করে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ গুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮জন। তারমধ্যে নতুন আক্রান্ত ৩জন সহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬জন, সুস্থ্য হয়ে বাড়ীতে অবস্থান করছেন ১জন, মৃত্যুবরণ করছেন ১জন।

নতুন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬১ জনের। উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সূত্রে জানাযায়, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পাড়ার কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশে সংক্রামণটি ধরা পড়ে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ পেরিয়ে সিলেটে করোনা রোগীর সন্ধান মিলে। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল নারায়নগঞ্জ ফেরত ট্রাক শ্রমিক উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সরুফৌদ গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। এর পর ২২ মে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, নির্বাহী অফিসের পরিচ্ছন্ন কর্মী রনী লাল দাশ, ২৩ মে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপজেলার তেলীহাটি গ্রামের বিপুল চন্দের স্ত্রী জ্যেতি রানী চন্দ্র, ২৪ মে নির্বাহী অফিসের আইসিটি অফিসার মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ্য প্রহরী সেলিম আহমদ, ২৬ মে করোনা উপসর্গ নিয়ে জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আবুল হোসেন চিকিৎসাধিন অবস্থায় সিলেটের শামসুদ্দিন মেডিকেল এ মৃত্যু বরণ করে, ২৮ মে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত দেব নাথ, একই অফিসের কাইয়ুম আহমদ, মোঃ আবু ইউসুফ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ রাশেল ভূইয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী শীশাকর কুমার ঘোষ এবং উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের সরুফৌদ গ্রামের আসাদ উদ্দিন, ৩০ মে জৈন্তাপুর উপজেলার সদর নিজপাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াহিয়া, ৩১ মে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মচারী ধরনী কান্তি রায়, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের কর্মচারী মুক্তাদির হোসেন মুক্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী করোনা কান্ত দে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এছাড়া কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভিগের কর্মকর্তা জৈন্তাপুর উপজেলা চাক্তা গ্রামের বাসিন্ধা মোঃ ইয়াজুল আমিন কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন।সচেতন মহল মনে করছে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস জৈন্তাপুর উপজেলায় ১৬ এপ্রিল ধরা পড়ার পর পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং উপজেলা পরিষদের ঘটিত ভাইরাস মোকাবেলা টিম কঠোর অবস্থানে থেকেই রাত দিন জনসচেতনতা সৃষ্টি করার কারনে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পাড়েনি। সর্বশেষ মে মাসের শেষ অংশে এসে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারনে কিছুটা সুযোগ দেওয়া হলে ভাইরাসটি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলছে। তারা ধারনা করেছেন উপসর্গ ছাড়ই উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে ভাইরাসটি আক্রান্তের বেড়েছে এটি সঠিক নয়, উপজেলার জনসাধারণ বিভিন্ন স্থানে অসচেতন ভাবে চলা ফেরার কারনে ভাইরাসটি গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাদের ধারনা, যদি গ্রাম অঞ্চলে টেষ্ট বৃদ্ধি করা হলে তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার প্রতিবেদককে জানান, আজ আমরা জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সহ অন্যান্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ীর সদস্য সহ জনসাধারনের ৬১টি নমুনা সংগ্রহ করে সিলেটের ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে। 

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close