‘করোনা’: বিশ্বনাথে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৫০

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি::

সিলেটের বিশ্বনাথে করোনার ক্ষোভ নিয়ে গ্রামবাসীর দু’পক্ষের মধ্যে বিশ্বনাথ-রামাপাশা সড়ক অবরোধ করে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে নারী ও মসজিদের ইমামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলার কাদিপুর গ্রামে সকাল ১১টার দিকে ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গয়াছ আলী (৫০) পক্ষে ও রফিক আলীর (৫২) পক্ষে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ২০ রমজান রফিক আলীর স্ত্রী করোনা ভারাইস জনিত সমস্যা দেখা দিলে এলাকায় গুঞ্জন ওঠে। (যদিও রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে)। পরের দিন ২১ রমজান রফিক আলীর ভাই প্রবাসী আইয়ুব আলী আঙ্গুর আলীকে ডেকে নিয়ে এক জায়গায় বসে কি যেন আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আঙ্গুর আলী আয়ুব আলীকে বলেন না ভাই তোমাদের বাড়ীতে করোনা রোগী এখানে বসা যাবেনা অন্য কোথাও বসি। একপর্যায়ে কোথাও না বসে অন্যান্যসহ সবাই চলে যান। এর পরের দিন করোনা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে মারামারিতে রূপ নেয়। এর রেশ না যেতেই গত বুধবার রফিক আলী পক্ষের জমিতে গয়াছ আলী পক্ষের একটি গরু গেলে উভয়পক্ষে আবারও মারামারিতে রূপ ধারন করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসী বিষয়টি নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত আলোচনা চলে। রাত পোহালে সকাল ১১টার দিকে রফিক আলীর পক্ষে ও গয়াছ আলীর পক্ষে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে শালিসকারী ও পথচারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে গয়াছ আলীর পক্ষে মৃত এর্শ্বাদ আলীর ছেলে গয়াছ আলী (৫০), মৃত হারুনুর রশিদ’র ছেলে আঙ্গুর আলী (৬০), আশরাফ আলী (১৮) ও তার মা নুরুন নেছা পাতারুন (৫৫), মৃত রজব আলী’র ছেলে বিলাল উদ্দিন (৫০) ইলিয়াছ আলী’র ছেলে ইকবাল হেসেন (২০) ও কামিল আহমদ (১৭), মৃত আরজান আলী’র ছেলে গৌছ আলী (৩০) এবং রফিক আলীর পক্ষে মৃত ফিরোজ আলী’র ছেলে ফরিদ আলী (৩০), মৃত ফজর আলী’র ছেলে মুহিব উদ্দিন (২৬) ও মৃত উস্তার আলীর ছেলে আক্তার হোসেন (২২) আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদ আলী ও বিলাল উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আপোষ মিমাংশায় শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি আপোষ মিমাংশায় শেষ করার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যপারে থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close