পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি বাড়ছে

গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা::

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর সিলেটে টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সিলেটের সুরমা ও গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনে ক্রমাগত বাড়ছে এ নদীর পানিও।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬ টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে ৭ দশমিক ৯৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে পানির বিপদসীমা হলো ৮ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। তবে কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে পানির বিপদসীমা হলো ১০ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার।

অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি ১২ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছ। এ পয়েন্টে ১২ দশমিক ৩৫ হলো পানির বিপদসীমা। আর কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সারি-গোয়াইনঘাট সড়ক, সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক, ফতেহপুর-হাকুরবাজার-মানিকগঞ্জ সড়কসহ কয়েকটি সড়ক ডুবে গেছে। এসব সড়ক কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

তবে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব গণমাধ্যমকে বলছেন, এলাকায় স্থাপিত বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পানি-বন্দি মানুষ উঠতে শুরু করেনি। তবে দুটি আশ্রয় কেন্দ্রসহ প্রাতিষ্ঠানিক ৫২ টি আশ্রয় কেন্দ্র পুরাপুরি প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল, নন্দীরগাওঁ, রুস্তুমপুর, পশ্চিম জাফলং, লেঙ্গুড়া, পূর্ব জাফলং, আলীরগাওঁ, পূর্ব আলীরগাওঁ, ডৌবাড়ি ও ফতেহপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ অঞ্চলে পানি উঠেছে। এসব এলাকার নিরাপদ পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিক মেরামত করার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close