টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

গ্রীষ্মের প্রচন্ড খরা ও তাপদাহের পর কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ডাউকি, গোয়াইন ও সারী নদীর পানি। পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে সারী-গোয়াইনঘাট ও রাধানগর-গোয়াইনঘাট এবং সালুটিকর গোয়াইনঘাট সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়ক সমূহের উপর দিয়ে কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বসত বাড়িতে পানি উঠায় পানিবন্দি হয়ে অনেকে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। বসত বাড়ির পাশাপাশি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের পুকুরে পাড় ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা কয়কে দিনের ভারী বর্ষণ ও ডাউকি এবং সারী নদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন থেকে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগান, মমিনপুর, আসাম পাড়া, আসাম পাড়া হাওর, ছৈলাখেল অষ্টম খন্ড (আংশিক এলাকা) নবম খন্ড, সানকী ভাঙ্গা, নয়াগাঙের পার, বাউরবাগ হাওর, ভিত্রিখেল হাওর, আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর, তিতকুল্লির হাওর, বুধিগাঁও হাওর, রাজবাড়ি কান্দিসহ পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুগুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে পরে।

এতে করে রোপায়িত আউশ ও আমন ধানের বীজতলাসহ কৃষকের প্রায় শতাধিক হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও কৃষি অফিস সূত্রের দাবী তলিয়ে যাওয়া ফসলি জমির পরিমাণ ৬০-৭০ হেক্টর হবে। যার মধ্যে ১০ থেকে ১৫ হেক্টর আউশের বীজতলা, প্রায় ৩০ হেক্টর বোনা আউশসহ ৫ হেক্টর সবজির ক্ষেত । তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুলতান আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে আমন ধানের বীজতলা, বোনা আউশ ও সবজির ক্ষেতসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬০-৭০ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে এর পরিমান আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আর যদি বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় তাহলে, তলিয়ে যাওয়া ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবেনা বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কথা হলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ডাউকি, গোয়াইন এবং সারী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উপজেলার জাফলং চা-বাগানসহ কয়েকটি

রাস্তাঘাটের উপর দিয়ে প্রবল স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত বড় ধরণের আর কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সবকটি ইউনিয়নের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। বন্যায় জনগণের দূর্ভোগ লাগবে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্ধি মানুষজনের জান-মাল ও গবাদিপশু রক্ষায় সরকারের তরফে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও তদারকি করা হচ্ছে। পানিবন্ধি পরিবারের জন্য জরুরী ত্রাণ সহায়তা চেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close