আমিরাতে নও-মুসলিমদের বয়ানে এবারের রমযান

এবারের রমযান মাসে প্রথমবারের মতো রোযা রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকশ নও-মুসলিম। চলতি বছরের শুরুর দিকে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

জানা গেছে, অন্তত ৮৫২ জন জানুয়ারি থেকে এ বছরের এপ্রিলের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছে। গত বছর এই সময়ে ৮৩৮ জন ইসলাম গ্রহণ করেছিল সে দেশে।

যদিও এ বছর সারাবিশ্বের মুসলমানদের কাছে করোনাভাইরাসের জেরে রমযান মাস একেবারেই আলাদা। নতুনভাবে ইসলাম গ্রহণকারী কয়েকজন এবারের রমযান সম্পর্কে সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

আমিরাত আমাকে ইসলাম শিখিয়েছে

মাত্র এক দশক আগেও ইসলাম সম্পর্কে সামান্য ধারণা ছিল না সেন বেসিটের। অথচ তিনি এখন ইসলাম ধর্ম পালন করেন। আমিরাতে বসবাসকারী এই নও-মুসলিম জানান, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পরিবারে স্কটল্যান্ডে বেড়ে উঠেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে যোগ দেন এবং ১৯৮০’র দশকে প্রথমবার মুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটেছে তার। সেটাও জার্মানিতে।

৫১ বছর বয়সী বেসিট বলেন, আজমানে এখন থাকছেন। চলতি বছরের মার্চে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। নও-মুসলিম হিসেবে এবারই প্রথম রোযা থাকছেন।

তিনি আরো জানান, কয়েক বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবার বেড়াতে এসে ইসলাম সম্পর্কে হালকাভাবে জানতে শুরু করেন। সেই থেকে ইসলাম নিয়ে জানার আগ্রহ।

তিনি আরো বলেন, যে কম্পানিতে আমি বার্লিনে কাজ করতাম, তারাই আমাকে আমিরাতে পাঠিয়েছে। মুসলিম সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা ছিল না। আমি কেবল সেনাবাহিনীর ধ্যান-ধারণা লালন করতাম। বিশেষ করে ইরাক ও আফগানিস্তানে যে যুদ্ধ চলছে সে সম্পর্কে ধারণা রাখতাম।

তারপর এখানে যখন চলে আসলাম এবং বসবাস করতে লাগলাম। তখন দেখলাম- আমার বন্ধুদের বেশিরভাগই মুসলিম। আর তাদেরকে বেশ ভালোই লাগল। তারা ইসলাম সম্পর্কে আমাকে জানতে আগ্রহী করে তুলল এবং ধীরে ধীরে আমিও নিজের চিন্তা পাল্টাতে থাকলাম। 

রোযার অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন বলেও জানান তিনি। বেসিট বলেন, আমি যে ধরনের প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। করোনাভাইরাসের কারণে আমার বন্ধুরা আমাকে নামাজে এবং আরবিতে সূরা শিখতে সেভাবে এখন সাহায্য করতে পারছে না। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, রমযান কেবল না খেয়ে থাকার মাস নয়।

তিনি আরো বলেন, যখনই সুযোগ পাচ্ছি আমি নামাজ পড়ছি। কুরআন পড়ছি এবং বোঝার চেষ্টা করছি। আমার কাছে এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হলো- আরবিতে সূরা মুখস্থ করে নামাজ পড়া। ইউটিউবে এসব সূরা পাওয়া গেলেও ওসখান থেকে শেখাটা একটু কষ্টকর।

সাহরি ও ইফতারের জন্য বেসিট নিজেই রান্না করেন। 

রুশ নও-মুসলিমের অভিজ্ঞতা


৪০ বছর বয়সী রুশ নও-মুসলিম ইভান কিংসব্রিজ এক বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসেছেন। আমিরাতে আসার পরেই ইসলাম সম্পর্কে জেনে পরে নিজের ধর্ম পাল্টে ফেলেছেন।

চলতি বছরের ২০ মার্চ মাসে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এবারের রমযানে নিজের খাওয়া, ঘুম ও নামাজের সূচি বদলে নিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে মাগরিবের আগে ব্যায়াম সেরে ফেলে ইফতারের জন্য বসে পড়া এবং সারাদিন রোযা রেখে আছরের নামাজ পড়াটাও একটা চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো- সারাদিন পানি পান না করে থাকা। যদি আমি খাবার এবং পানির দিকে খেয়াল না করে নিজের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সময় পার করি, তাহলে সময়টা দ্রুত চলে যায়। বিশেষ করে কুরআন পাঠ করলে সময় গড়িয়ে যায়। আর এতে করে ঈমান আরো দৃঢ় হয়।

তিনি আরো বলেন, আমার কিছু আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এই রমযান মাসে। এই মাসের কল্যাণে নম্র-ভদ্র থাকছি এবং সুচন্তিা করতে পারছি।

২০১২ সালে প্রথমবার আমিরাতে এসে মুসলমানদের কর্মকাণ্ড দেখে আকর্ষিত হয়েছিলেন তিনি। বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জেনে মুসলমান হন তিনি।

সূত্র  ::— দ্য ন্যাশনাল

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close