নগরীতে ‘করোনা’ মহামারীতেও থেমে নেই মাদক ব্যাবসায়ীদের দৌরাত্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

করোনা সংকটে যখন গোটা দেশ লকডাউনে তখন নগরীর উপশহরের তেররতন এলাকা জুড়ে দিনরাত চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। ইয়াবা ও গাঁজাসহ সব ধরনের মাদকের সয়লাব উপশহরের তেররতন এলাকার মহিলা মাদ্রাসার গলি।

এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাজা, ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্য। করোনা মহামারীতে লকডাউনে জনজীবন যেখানে বিপর্যস্ত জীবন জীবিকার তাগিদে যেখানে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা সেখানে পুলিশ প্রশাসনের নিরলস চেষ্টায় দুবেলা দুমুঠো অন্নের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সিলেটের মানবিক পুলিশ।

ঠিক এ সংকটময় মুহুর্তে লকডাউন উপেক্ষা করে পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে দ্বিগুন উৎসাহে যুবসমাজ বিধ্বংসী মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তেররতন এলাকার গুটিকয়েক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা।

এতে করে লকডাউনের অলস সময়ে মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হচ্ছে যুবসমাজ। সরেজমিনে অনুসন্ধানীতে দেখা যায় সরকার দলীয় নেতাদের নাম ভাঙ্গীয়ে ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয়দিয়ে অত্যন্ত দাপটের সহিত মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নগরীর তেররতন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা।

মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে তেররতন মহিলা মাদ্রাসার গলিতে ছোট ছোট চা দোকানের ভিতরে ইয়াবা, গাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে যাচ্ছে, সহজে হাত বাড়ালে মাদকের দেখা মেলায় সব শ্রেণি পেশার মানুষ মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করোনা সংকট মোকাবেলায় এক গুচ্ছ মানবিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মাদক কারবারিরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারিরা ত্রানসামগ্রীর গাড়ী, পেয়াজ, চাল, ডালের বস্তায় করে বিভিন্ন কৌশলে মাদক সরবরাহ করে। তেররতন এলাকায় মাদ্রাসাতুল বানাত আল ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার সামনেই মাদক বিক্রি করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকর্মীরা ছবি নিতে গিয়ে মারধর ও হুমকির শিকার হন।

এই সময়ে রমরমা মাদক ব্যবসায় এক শ্রেণির বখে যাওয়া মাদকসেবি সদস্যরাও নানান ভাবে সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারিরা।

মাদকবিক্রি এবং মাদক সেবিদের স্থির ও ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় সংবাদকর্মিকে পাশাপাশি এই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে হাত রয়েছে প্রভাবশালী খোলস বদলকারী স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাদের ছত্রছায়ায় নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট।

করোনায় সারাদেশে যানবাহন চলাচল বন্ধ, তবুও থেমে নেই মাদক পরিবহন। ভিন্নভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে মাদক কারবারিরা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে মাদক আনা নেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিস পরিবহন করার নামে মাদকের বড় ডিলারদের কাছ থেকে মাঝারি ডিলার, মাঝারি থেকে ক্ষুদ্র ডিলার বা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, শেষ ধাপে ক্রেতা বা মাদকসেবিদের হাতে।

মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিক্সা/ভ্যান ও হেঁটে হেঁটে মাদক পরিবহন হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। করোনা সংকটে পুলিশ র‌্যাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ মাদকদ্রব্যর বড় বড় চালান ধরছে প্রতিদিন, গ্রেফতারও করছে কারবারিদের। আলুর বস্তায় মিলছে গাঁজার বান্ডিল, মাছের ট্রাকে মিলছে ফেন্সিডিল, মোটরসাইকেলের সিটে এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের ইঞ্জিনের ভিতরে লাখ লাখ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করছে পুলিশ, র‌্যাব ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বেরোনোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভ্যান/রিক্সা, মোটরসাইকেল/বাইসাইকেল ও পাঁয়ে হেটে মাঝারি ডিলাররা খুচরা বিক্রেতাদের মাদকের চালান পৌঁছে দিচ্ছে। মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেররতন এলাকার খুচরা এক মাদক বিক্রেতা জানান,

তেররতন এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে গেলে থানা পুলিশের গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ না করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব! থানা পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদেরকেও মাসোহারা দিতে হয়। নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করতে গেলে এসব ম্যানেজ করেই ব্যবসা করা লাগে। কারাগারে আটককৃত এই মাদক ব্যবসায়ী আরো জানান করোনা মহামারির কারনে পুলিশি অভিযান স্থিমিত হয়ে পড়লেও বন্ধ হয়নি পুলিশের মাসহারা।

করোনা সংকটে দেশে লকডাউন চলায় সবাই বাসায় অবস্থান করছে, এই সুযোগে নগরীর উপশহরের এইচ ব্লকের এক নাম্বার রোড দিয়ে তেররতন এলাকার পিছনের রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে একটি কলোনির রুমে সংঘবদ্ধ হয়ে মাদকসেবীরা মাদক সেবন করে। এতে করে যেমন বেড়ে যাচ্ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি তেমনি মাদকের কোরাল গ্রাসে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ। লকডাউনেও আছে চায়ের দোকান খোলা । মহিলা মাদ্রাসার গলির আড্ডা থেমে নেই, থেমে নেই মাদকসেবন।

নির্জনতার সুযোগে চুটিয়ে আড্ডার ছলে মাদকসেবন চলছে। এব্যপারে ২২,২৩,ও ২৪ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রেবেকা আক্তার লাকী বলেন আমার কাছে সরাসরি কোন অভিযোগ আসানি, অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে শাহপরান (রহ.) থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই সোহেল রানা বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে তারপরও যদি দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে কোন মাদক ব্যবসায়ী যদি অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসা করে থাকে তাহলে আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন আমরা তাদের আইনের আওতায় আনব,

এ ব্যাপারে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি এই ফাঁড়িতে নতুন যোগদান করেছি তাই এব্যপারে বিস্তারিত কিছু জানিনা।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close