‘করোনা’: ৮ ভ্যাকসিন পরীক্ষার অনুমতি দিলো ডব্লিউএইচও

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

করোনা ভাইরাসকে পরাস্তে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত ১০৮টি সম্ভাব্য টিকা বা ভ্যাকসিন নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এখনো এসব ভ্যাকসিনের কোনোটিই করোনার বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি। শুধু দুই-একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সফল বলে দাবি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় আটটি ভ্যাকসিনকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিজনেস টুডের।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পাওয়া আটটি ভ্যাকসিনের মধ্যে পাঁচটিই করোনার উৎসভূমি চীনের। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একটি করে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। অপর ভ্যাকসিনটি তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করছে জার্মান কোম্পানি বায়োঅ্যানটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক কোম্পানি পিজফার। করোনার বিরুদ্ধে এই ভ্যাকসিন তৈরিতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গবেষক দল ছিল ১০৪টি। এখন নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, তুলানে ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং দি ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ।

গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করে দি আমেরিকান ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট বা এনআইএস। এর পর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও আরেকটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছে। যার চূড়ান্ত ফল আসার কথা আগামী মাসের মধ্যভাগে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে ইতালি। এটি কার্যকরভাবে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন রোমের স্পালানজানি হাসপাতালের গবেষকরা, যা প্রস্তুত করেছে রোমের ‘তাকিস’ নামে একটি কোম্পানি।

ইতালীয় গবেষকরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর অন্তত পাঁচটি অ্যান্টিবডি গড়ে তোলা হয়। তারা সেখান থেকে সবচেয়ে কার্যকর দুটি অ্যান্টিবডি নিয়েছেন। এর পর সেখানে রক্ত থেকে সিরাম আলাদা করা হয়েছে। এখন দেখতে হবে এই অ্যান্টিবডি কতদিন কার্যকর থাকে। তাকিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইগি আরিসিচিও সংবাদ সংস্থা এএনএসএকে বলেন, নতুন এই ভ্যাকসিন যে মানুষের শরীরে কার্যকর হবে, তার সংকেত মিলেছে স্পালানজানি হাসপাতালেই। এটিই বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হতে যাচ্ছে, যা সরকারি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে। আর এই ছাড়পত্র পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

স্পালানাজানি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, নতুন এই ভ্যাকসিন যে করোনা ভাইরাস ধ্বংসে কার্যকর এটি তারা নিশ্চিত। এখন তারা মার্কিন কোম্পানি লাইনার্ক্সের সঙ্গেও কাজ করছে আরও আধুনিক প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মের জন্য।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close