‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’: সুবীর নন্দীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ই মে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

সুবীর নন্দী ১৯৫৩ সালের ১৯শে নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দীপাড়া নামক মহল্লা এক সংগীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

শিল্পীর মৃত্যু নেই। শিল্পীরা শুধু চোখের আড়াল হয়। দেহ চলে যায়, আত্মা মানুষের মাঝে বিরাজ করে! সুবীর নন্দী চলে গেছেন এক বছর হলো। গত বছরের এই দিনে তিনি সিঙ্গাপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কখনো মনেই হয়নি যে, তিনি আমাদের মাঝে নেই! কারণ একটাইÑ সুবীর নন্দী গানের মাঝেই বেঁচে আছেন, যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবেন।

আমার এ দুটি চোখ, বন্ধু হতে চেয়ে, আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, চাঁদের কলঙ্ক আছে, দিন যায় কথা থাকে, একটা ছিল সোনার কন্যা, হাজার মনের কাছে, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, পাহাড়ের কান্নাসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন। এই গানগুলোর সঙ্গে শ্রোতার নিবিড় সম্পর্ক, নিত্যদিনের সম্পর্ক। যার কণ্ঠে এত সুর, এত গান আছে তাকে কি শ্রোতারা ভুলে থাকতে পারেন?

১৯৬৩ সাল থেকে সুবীর নন্দী গান গাওয়া শুরু করেন। প্রথমে সিলেট বেতারে গান করেন। তার গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। লোকগানে ছিলেন বিদিত লাল দাশ। সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে। প্রথম গান ‘যদি কেউ ধুপ জ্বেলে দেয়’। ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কণ্ঠে তোলেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। বেতার থেকে টেলিভিশন, তার পর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। ১৯৮১ সালে তার একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে। তিনি গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্যাংকেও কর্মরত ছিলেন।

চলচ্চিত্রের সংগীতে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়া সংগীতে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close