দাম্ভিকতা রেখে জনগণের পাশে দাঁড়ান : সরকারকে ফখরুল

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সর্বদলীয় একটা উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বললেও সরকার সে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এটা বাদ দিয়ে ব্যুরোক্রেট-বিশেষজ্ঞ ছাড়া স্বনামধন্য যারা আমাদের দেশে আছেন তাদের নিয়েও টাস্ক ফোর্স গঠন করার দাবি আমরা করেছিলাম। সেটাও করা হয়নি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য খাতে একটা টেকনিক্যাল কমিটি করেছে। সেখানে দেখবেন অনেক বরণ্যে চিকিৎসক বাদ পড়েছে এবং এই ধরনের ভাইরাল ডিজিজের সঙ্গে যারা লেখাপড়া কাজ করেছেন তাদেরকে সম্পৃক্তই করা হয়নি। সেখানে দলীয়কলণ করা হয়েছে।

এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দূরদৃষ্টি একেবারেই নেই, রাজনীতি বলেন বা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রজ্ঞা- সেই প্রজ্ঞারও অভাব। চরম উদাসীনতা এবং দাম্ভিকতা-অহংকার ছাড়া আর কিছুই তাদের কাছে নেই। যার ফলে আজকে যতই তারা বলুক তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে সেটা জনগণ মেনে নিতে পারছে না।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, আজকে শুনলাম এক ভদ্রলোক বলছেন, শপিংমল খুলবে না কেনো? অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তো চালু রাখতে হবে। আমরাও তো চাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে হবে। বাট ওয়াট কজ। সেটা কী জনগণের জীবনের মূল্যে? তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেই তো সব কিছু করবেন। এটাই তো রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের দায়িত্ব। দেশের মালিক জনগণ, তাদেরকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কিভাবে তাদের কল্যাণ করা যায় তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারকে বলব, এ ধরনের দাম্ভিকতা না রেখে, এই ধরনের অহংকার থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের পাশে দাঁড়াতে। সুরক্ষিত অট্টালিকায় থেকে মানুষের দুর্ভোগ, মানুষের কষ্ট-বেদনা বোঝা যায় না। দায়-দায়িত্বটা সরকারের। এটা বুঝতে হবে।

লকডাউনে গার্মেন্ট খোলার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন সবই খুলে দেয়া হয়েছে। আমরা টেলিভিশনের যেটা দেখছি সেটা হচ্ছে ভয়ংকর পরিস্থিতি একটা। প্রায় বেশিরভাগ কারখানায় নিরাপত্তার যে ন্যূনতম ব্যবস্থা, তা নেই। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করলেও অধিকাংশ শ্রমিকরা এখনও বেতন-ভাতা পাননি।

কৃষিখাতের প্রসঙ্গে টেনে ফখরুল বলেন, সরকার বলছেন, ২২ লক্ষ মেট্রিক টন চাল কিনবেন। এখন পর্যন্ত বোরো ধান কেনার কাজ শুরু হয়নি। যার ফলে কৃষকেরা ক্ষেতের মধ্যে অত্যন্ত কম মূল্যে ৬০০ টাকা মূল্যে ধান বিক্রি করছে। ময়মনসিংহ হাওর অঞ্চলে এই দামে ধান কৃষকরা বিক্রি করছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে বলেও জানান তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close