গোয়াইনঘাটে প্রতিমাসে ১১ হাজার পরিবার চাল পাবে

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃঃ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদী কোন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলে সেটিও মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কর্মহীন নাগরিককে ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে নেয়া হয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এক্ষেত্রে কোন ধরণের দুর্নীতি হলে ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এদিকে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংকটকালে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায়, কর্মহীন হয়ে পড়েছে শহর ও গ্রামের অসংখ্য মানুষ। করোনার বিস্তৃতি রোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে সবাই ঘরে অবস্থান করায় স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীসহ পুরোদেশ। এ অবস্থায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, পরিবহণ শ্রমিক ও চায়ের দোকানদারের মতো কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের দ্রুত তালিকা করে অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা দিতে আদেশ জারি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে, তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১১ হাজার পরিবারে করোনাভাইরাসের সংকট কালীন সময়ে প্রতিমাসে ২০ কেজি করে চাল দেবে সরকার। আগামী জুন মাস থেকে চাল বিতরণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গৃহবন্দী ১৫শ পরিবার, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন ১৫শ পরিবার, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে ১৬শ পরিবার, লেঙ্গুড়া ইউনিয়নে ৮শ পরিবার, আলীরগাওঁ ইউনিয়নে ১৫শ পরিবার, ফতেহপুর ইউনিয়নে ১ হাজার পরিবার, নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নে ১১শ টি পরিবার, তোয়াকুল ইউনিয়ন ১১ পরিবার ও ডৌবাড়ী ইউনিয়নের ৯শ টি পরিবার।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরাকায়স্থ বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতে গোয়াইনঘাট উপজেলার গৃহবন্দী অসহায় মানুষের মাঝে শুকানো চাল, আলু, ডাল, লবণ, তেল দেয়া হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নগদ টাকা দেয়া হচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব বলেন, কর্মহীনদের তালিকা প্রণয়ন থেকে ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সরাসরি কাজ করবে।

ত্রাণ নিয়ে কোন ধরণের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এবং কেউ যদি এটার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধরে নেয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close