আজ প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের জন্মদিন

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো/ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো/ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা/ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা …। এভাবেই বাংলার প্রকৃতি আর প্রাণের প্রতি ভালবাসা জানিয়েছিলেন হুমায়ুন আজাদ।

তার লেখাতে বাঙালি মুসলমান সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি নিয়ে যুক্তি নির্ভর বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ভিন্ন মতবাদ তুলে ধরা হয়েছে। এতে একদিকে তিনি যেমন নন্দিত হয়েছেন, আবার নিন্দিতও হয়েছেন। এর স্বপক্ষে তার জবাব ছিল, তিনি এই গোত্রেরই মানুষ, তাই এ জাতির কাছে তার প্রত্যাশা অনেক; কিন্তু যখন দেখেন বাঙালি অনিবার্যভাবে পতনকেই বেছে নিচ্ছে তখন তিনি তার সমালোচনা করেছেন।

তিনি কুসংস্কারহীন এক আধুনিক সমাজের স্বপ্ন দেখতেন।

সেই ভালবাসার আকাঙ্কাখায় ছিল সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ। তাই তো অসাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়ানো মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতি চরম সোচ্চার ছিল কলম। ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ নামের উপন্যাস লিখে রোষানলে পড়েছিলেন স্বাধীনতাবিরোধীদের। শিকার হতে হয়েছিল জঙ্গী হামলার। আজ মঙ্গলবার একুশে পুরস্কারজয়ী প্রথাবিরোধী এই বহুমাত্রিক লেখকের ৭৪তম জন্মদিন ও ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের আজকের ২৮ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামে জš§গ্রহণ করেন তিনি। জন্মদিনে ড. হুমায়ুন আজাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

হুমায়ুন আজাদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অলৌকিক ইস্টিমার’, ‘লাল নীল দীপাবলি (বাঙলা সাহিত্যের জীবনী)’ ‘জ্বলো চিতাবাস’, ‘শামসুর রাহমান-নিঃসঙ্গ শেরপা’, ‘Pronominalization in Bengali’ ‘বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র’, ‘বাক্যতত্ত্ব’, ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’, ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসেন’, ‘কতোনদী সরোবর (বাঙলা ভাষার জীবনী)’, ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’, ‘আমাদের শহরে একদল দেবদূত’, ‘আমার অবিশ্বাস’, ‘সীমাবদ্ধতার সূত্র’, ‘নারী’, ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’, ‘আধার ও আধেয়’, ‘আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম’, ‘মানুষ হিসাবে আমার অপরাধ সমূহ’, ‘কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ’, পাক সার জমিন সাদবাদ প্রভৃতি।

তিনি ১৯৮৬ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ‘অগ্রণী শিশু-সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬), মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার (২০০৪) এবং ২০১২ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদক (মরণোত্তর) পেয়েছেন তিনি।

সৃজনশীলতার ভুবনে বহুমুখী পথে বিচরণ করেছেন হুমায়ুন আজাদ। লিখেছেন পাঠকসমাদৃত কবিতা থেকে উপন্যাস। একইসঙ্গে ছিলেন তিনি ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক ও গবেষক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও কিশোর সাহিত্যিক। কর্মজীবনে বেছে নেন শিক্ষকতা পেশাকে। সবশেষ তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় এই লেখকের আলোচিত ও সমালোচিত প্রবন্ধের বই ‘নারী’। মূলত গবেষক ও প্রাবন্ধিক হলেও হুমায়ুন আজাদ ১৯৯০-এর দশকে একজন প্রতিভাবান ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close