করোনা সংকটে খাদ্য সহায়তায় প্রচারবিমুখ ফয়সল চৌধুরীর মানবিকতা

করোনা সংকটে বিপর্যস্ত সারাদেশ। বিপর্যস্ত প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের গোলাপগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজার উপজেলাও। সারাদেশের মতো এ উপজেলার মানুষের মাঝেও করোনা সংকটের প্রভাব পড়েছে। বিদেশ থেকে আসছে না টাকা; ফলে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারও। আর সবচেয়ে বেশি বিপাকে খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষ। ঘরে নেই খাবার, নেই কাজও। এ অবস্থায় কারো কাছে হাত পাততেও পারছেন না তারা।
দুর্যোগপূর্ণ এ মুহুর্তে লোকদেখানো খাদ্য সহায়তা নিয়ে কেউ কেউ এগিয়ে আসলেও কার্যত বেশিরভাগ মানুষই খাদ্যহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। দুই উপজেলার এসব মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী। তবে তিনি কোন প্রচারণা ছাড়াই নিরবে হতদরিদ্র কর্মহীন পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি খাদ্য সামগ্রী প্রদানকৃত ব্যক্তির কিংবা পরিবারের ছবি তুলে প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রেও দলের নেতাকর্মীদের কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তিনি।
ফয়সল আহমদ চৌধুরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও তিনি এ দুই উপজেলার জনসাধারণকে ভুলেননি। নির্বাচনের আগে তিনি জনসাধারণের পাশে সবসময় থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; এই দুঃসময়ে তাদের পাশে থেকে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নেরই চেষ্টা করছেন।
এ ধারাবাহিকতায় গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার ৩ হাজার মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন তিনি। দলের উপজেলা, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী প্রদান করে আসছেন।
এ বিষয়ে ফয়সল চৌধুরী বলছেন, এ দুই উপজেলার মানুষের ভালোবাসা আমি গত নির্বাচনে পেয়েছি। তাদের দুঃসময়ে আমি ঘরে বসে থাকতে পারিনি। তবে এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রচারবিমুখ অবস্থায় আমি সাধ্যমতো তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, ‘আমি অসহায়দের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এ কারণে এ বিষয়ে কোন প্রচারণা চালাতে নেতাকর্মীদের কড়াভাবে নিষেধ করে দিয়েছি; যাতে কোন সহায়তা গ্রহিতার ছবি কিংবা পরিচয় প্রকাশ না পায়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বার্তা দিয়েছেন- আমরা যেন নিজ নিজ ঘরে নিরাপদ থাকি। সাধ্য অনুযায়ী আশপাশের গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। এজন্য অন্তত:পক্ষে আমাদের আশপাশের মানুষের পাশে দাঁড়াই, আশপাশের মানুষজনকে ভালো রাখতে চেষ্টা করি।’
তিনি আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বেশি বেশি করে ইবাদতের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বানও জানান।’
এদিকে, ফয়সল চৌধুরীর এই উদ্যোগ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী সবাই সাধুবাদ জানাচ্ছেন তাকে। মানবিকতা থেকে তার মতো নেতারা এগিয়ে এলে কোনো সংকটই দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করছেন সবাই।

— প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close