সিলেটের চার জেলায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৯ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের সাথে প্রচণ্ড বজ্রপাত। ভয়ঙ্কর এই আগুনের ফুলকি সিলেটজুড়ে একদিনেই কেড়ে নিয়েছে ৯ তাজা প্রাণ।

আজ শনিবার সকালে বজ্রপাতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে বজ্রপাতে মারা গেছে ৩টি গরু। ফলে সুনামগঞ্জ জেলায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। করোনা আতঙ্কের সাথে বর্তমান মৌসুমী আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলার কৃষকদের মনে। ফলে ধান পাকলেও একদিকে করোনা আতঙ্কে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে অন্যদিকে কৃষকরা বজ্রপাতের কারণে নিজেও যেতে পারছেন না ধান কাটতে।

আজ শনিবার বজ্রপাতে সিলেট বিভাগের সিলেটে ৪ জন, সুনামগঞ্জে ৪ জন এবং হবিগঞ্জে একজন মারা গেছেন।

জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইউনিয়নের পুরান কালারুকার পূর্ব উত্তরপাড়ার শমসের আলী ও তার ছেলে ছয়ফুল আহমদ। তারা কালারুকা পশ্চিম হাওরে (উনাখাওরি বিল) ধান কাটতে গিয়েছিলেন। বজ্রপাতে বাবা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আজ শনিবার বিকালে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের দরগাবাহার গ্রামে বজ্রপাতে প্রাণ হারান ইসলাম উদ্দিন বলাই। তিনি গরু আনতে মাঠে গিয়েছিলেন। এছাড়া ওসমানীনগরের দয়ামীরে রাহি আহমদ নামের এক কিশোরও মারা গেছে বজ্রপাতে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা গেছেন ৪ জন। নিহতরা হলেন- শাল্লা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের সুরেন্দ্র সরকারের ছেলে শংকর সরকার (২৬), জগন্নাথপুর উপজেলার বাউধরণ গ্রামের শিপন মিয়া (৩২), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের উত্তর গাজীনগর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে ফরিদ মিয়া (৩৫) এবং দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চিনাউরা হাওরে প্রাণ হারান হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মফিজ উল্লার ছেলে তাপস মিয়া (৩৫)।

বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে শংকর সরকার, নলুয়ার হাওরে ধান কাটার সময় শিপন মিয়া, গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদ মিয়া এবং ধান কাটার সময় তাপস মিয়া বজ্রপাতের কবলে পড়েন।

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের অলি ইসলামের ছেলে গরু ব্যবসায়ী লালু মিয়া (৩৯) শনিবার বজ্রপাতে মারা গেছেন। গরু নিয়ে মাঠে গিয়েছিলেন তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close